রাম মন্দির বিতর্কের মধ্যেই অযোধ্যায় আটক অজয় রাই, তোলপাড় রাজনীতি

অযোধ্যায় আটক অজয় রাই (AI নির্মাণ)

রাম মন্দিরে পুজো দিতে যাওয়ার কথা ছিল। সেই মতো সোমবার রাতেই অযোধ্যা পৌঁছন উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই। কিন্তু হোটেলে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে নিজেই এক্স হ্যান্ডলে ভিডিও বার্তায় অজয় রাই দাবি করেন, হোটেল পদম শ্রী প্যালেস থেকে তাঁকে পুলিশের জিপে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, বিজেপি সরকারের স্বৈরাচার এখন তুঙ্গে।<blockquote class=”twitter-tweet” data-media-max-width=”560″><p lang=”hi” dir=”ltr”>भाजपा सरकार की तानाशाही और दोहरा चरित्र देखिए! <br><br>आचार्य नरेंद्र देव विश्वविद्यालय के गेस्ट हाउस में मुझे कमरे के अंदर बंद कर दिया गया है। <br><br>प्रभु श्री राम के दर्शन करने से रोका जा रहा है और मानसिक रूप से प्रताड़ित किया जा रहा है।<br><br>एक तरफ गैर-कांग्रेसी नेताओं को बुलाकर VIP दर्शन… <a href=”https://t.co/QV0xKweGJ4″>pic.twitter.com/QV0xKweGJ4</a></p>&mdash; Ajay Rai🇮🇳 (@kashikirai) <a href=”https://x.com/kashikirai/status/2071902051093864475?ref_src=twsrc%5Etfw”>June 30, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

 

ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রাম জন্মভূমি মন্দিরের চাঁদা তছরুপ নিয়ে বিতর্ক। গত ২৬ জুন রাম জন্মভূমি থানায় ৮ জনের বিরুদ্ধে চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে মামলা রুজু হয়। অভিযুক্তরা সকলেই মন্দিরের দান গণনার কাজে যুক্ত কর্মী। বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর গত সোমবার আদালত ৮ জনকেই ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠায়। চাঞ্চল্যকর ব্যাপার, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া তিন মাস আগেই অনিয়মের ইঙ্গিত দিয়েছিল ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষকে, কিন্তু তাতে কর্ণপাত করা হয়নি বলে অভিযোগ। বিতর্কের চাপে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি অনিল মিশ্র নৈতিক কারণ দেখিয়ে পদ ছেড়েছেন, যদিও মামলায় তাঁদের নাম নেই।


এই উত্তপ্ত আবহেই মঙ্গলবার ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে রাম মন্দিরে যাওয়ার কথা ছিল অজয় রাইয়ের। দলে ছিলেন বারাবাঁকির সাংসদ তনুজ পুনিয়া, সীতাপুরের সাংসদ রাকেশ রাঠোর, এলাহাবাদের সাংসদ উজ্জ্বল রমণ সিংহ এবং আমেঠির সাংসদ কিশোরী লাল শর্মা। কিন্তু সফর শুরুর আগেই গোটা পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। অজয় রাইয়ের পাশাপাশি বারাবাঁকিতে নিজের বাড়িতেই আটকে পড়েন এক প্রাক্তন সাংসদ, প্রতাপগড়ে দলীয় জেলা সভাপতি নীরজ ত্রিপাঠীকেও আটক করা হয় বলে কংগ্রেসের অভিযোগ। প্রতিবাদে অজয় রাইয়ের স্ত্রী রিনা রাই ভিডিও বার্তায় বলেন, স্বামীর কোনও খোঁজ পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে না এবং তাঁর কিছু হলে দায় বিজেপি সরকারের।

অজয় রাইয়ের ক্ষোভ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বারাণসী কেন্দ্রে স্বয়ং নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে হেরেছিলেন তিনিই। সেই হারের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেস নেতা অভিষেক দত্ত মঙ্গলবার বলেন, ভোট চুরির অভিযোগের পরে যেমন মোদী জিতেছিলেন, এখন চাঁদা চুরির মামলাতেও একই কৌশলে অজয় রাইকে চুপ করানোর চেষ্টা চলছে। এক্স পোস্টে অজয় রাই নিজে বিজেপি-আরএসএসকে কটাক্ষ করে লেখেন চড়াবা চোর, অর্থাৎ চাঁদা চোর।

বিজেপির জবাবে অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী অনিল রাজভর কংগ্রেসের অভিযোগ খারিজ করে বলেছেন, এই নেতাদের পঞ্চাশ-ষাটজনও সমর্থক নেই, হতাশা থেকেই এসব করছেন। বিজেপি সাংসদ গুলাম আলি খতানার যুক্তি, মন্দিরে যাওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু মন্দিরের ভিতরে রাজনীতি করা এবং চলতি তদন্তে হস্তক্ষেপ করা অনুচিত।

লক্ষ্যণীয়, পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেফতার বা আটকের কথা স্বীকার করা হয়নি। যা কিছু অভিযোগ, তার পুরোটাই এসেছে অজয় রাই এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের বয়ান থেকে। অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের কোনও আইনজীবী অভিযুক্তদের হয়ে আদালতে দাঁড়াবেন না। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৩ জুলাই।