রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে মোদীকে নিশানা রাহুলের

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিদেশনীতি নিয়ে আবারও মোদী সরকারকে আক্রমণ করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেছেন, ভারতের তেল আমদানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমেরিকার হস্তক্ষেপ দেশের স্বাধীন বিদেশনীতির জন্য অস্বস্তিকর।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকা ইরানের উপর যৌথ হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় এবং হুঁশিয়ারি দেয়, সেখানে কোনও তেলের ট্যাঙ্কার দেখা গেলে তা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহণ হয়। ফলে ভারতসহ বহু দেশ জ্বালানি সঙ্কটের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে কাতার থেকে ভারতে যে তেল আসে, তার বড় অংশই এই পথ দিয়ে যাতায়াত হয়।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে তেল সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে। তবে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান, যা মিলিয়ে মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। এর ফলে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা লাগে।


পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন সেই শুল্ক আংশিকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় এবং নতুন করে ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা জানায়। একই সময়ে ভারত-আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোও চূড়ান্ত হয়। যদিও মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্ক আরোপকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছিল, তবুও প্রেসিডেন্ট সেই সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে পুনরায় শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেন।

বর্তমান সংকটের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রশাসন ভারতকে ৩০ দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল কেনার সাময়িক অনুমতি দিয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট সমাজ মাধ্যমে জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে এই অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে এই অনুমতি শুধুমাত্র ইতিমধ্যে সমুদ্রে থাকা তেলের ট্যাঙ্কারগুলির লেনদেনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং এর ফলে রাশিয়া বড় কোনও আর্থিক সুবিধা পাবে না বলেও তিনি দাবি করেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাহুল গান্ধী আবারও মোদী সরকারের বিদেশনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, ভারতের বিদেশনীতি দেশের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তির উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই আদর্শ থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিগত আপসের রাজনীতির প্রতিফলন বলেই তিনি মন্তব্য করেছেন।