অসম থেকে কালীঘাটকে ‘আসন সমঝোতা’ নিয়ে বার্তা দিলেন রাহুল 

গুয়াহাটি, ২৩ জানুয়ারি –  অসমের গুয়াহাটি থেকে আসন সমঝোতার সম্ভাবনায় জল সিঞ্চন করলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি।  অসমে মঙ্গলবার ভারত জোড়ো যাত্রার কর্মসূচি সেরে সাংবাদিক বৈঠকে জোট নিয়ে বার্তা দেন রাহুল গান্ধি৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সঙ্গে জোট নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিলেন তিনি৷  তিনি এদিন বলেন, ‘‘মমতাজির সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ও দলের সম্পর্ক (রিস্তা) খুবই ভাল।  কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিতর্ক হয়। আমাদের কেউ কিছু বলে দেন। ওঁদের কেউ কিছু বলেন। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু সে সব এতে (আসন বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে ) বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।’’ রাহুল গান্ধি এদিন সাফ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দল ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। ছোটখাটো সমস্যা থাকলে তাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ রাহুল। বরং তৃণমূল ও কংগ্রেসের জোটের পক্ষেই জোর সওয়াল করেন তিনি। রাহুল এদিন বুঝিয়ে দেন , ইন্ডিয়া জোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ । 

 
সোমবার মমতা ‘ইন্ডিয়া’র সমালোচনা করেন এবং কংগ্রেসের নাম না করেই তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি বলেছিলাম, যে রাজ্যে যে আঞ্চলিক দল শক্তিশালী, তারা সেই রাজ্য থেকে লড়ুক। আর আপনারা ৩০০ আসনে একা লড়াই করুন। আমরা সাহায্য করব। তারা বলছে, তাদের মর্জিমতো হবে।’’  সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণের পর অনেকেই মনে করেছিলেন, লোকসভা ভোটে বাংলায় রাহুল -মমতা আসন সমঝোতার সম্ভাবনা আর নেই । কিন্তু মঙ্গলবার অসমের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে ফের আসন সমঝোতার সম্ভাবনাকে খুব সহজ পথে জল সিঞ্চন করেন রাহুল গান্ধি স্বয়ং। মমতার ওই বক্তব্য নিয়ে মঙ্গলবার রাহুলকে প্রশ্ন করা হলে জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের যে আসন বোঝাপড়ার প্রক্রিয়া রয়েছে, তা চলছে। তার ফলাফল আসবে।’’
 
গত সপ্তাহে মুর্শিদাবাদ জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক করেছিলেন মমতা। সেই বৈঠকেই মমতা বলে দিয়েছিলেন, ৪২টি আসনে একা লড়াইয়ের প্রস্তুতি রাখতে হবে। অভ্যন্তরীণ বৈঠকের পাশাপাশি সোমবার প্রকাশ্যে মমতা কংগ্রেসের সমালোচনা করেন। সোমবার বাংলায় সংহতি যাত্রা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বিরোধী জোটের নাম ‘ইন্ডিয়া’ আমি দিয়েছি। কিন্তু, বৈঠকে যোগ্য সম্মান পাই না। সিপিএম বিরোধী জোটকে নিয়ন্ত্রণ করে। তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ পাশাপাশি তিনি আসন ভাগাভাগি প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাকে অনেক অসম্মানিত হতে হয়। আঞ্চলিক দলগুলো যেখানে শক্তিশালী, সেখানে তাদের লড়তে দেওয়া হোক।বিজেপিকে সাহায্য করবেন না। বিজেপিকে সাহায্য করলে আমি মাফ করব না। আমার হিম্মত আছে লড়াই করার মতো। কিন্তু, আমাকে লড়তে দেয় না। যত রক্ত দেওয়ার দেব। কিন্তু,বিজেপিকে একটাও আসন দেব না।’
 
উল্লেখ্য, আগামী বৃহস্পতিবার কোচবিহার হয়ে বাংলায় প্রবেশ করবে রাহুলের ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’। সমস্ত রাজ্যেই রাহুলের এই কর্মসূচিতে ‘ইন্ডিয়া’ শরিকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে কংগ্রেস। তবে কোচবিহারে তৃণমূল যাবে কি না, তা মঙ্গলবার শেষ পাওয়া খবরে দলের তরফে জানা যায়নি। বাংলায় ঢোকার মুখে ফের জোটের সম্ভাবনা উস্কে দিয়েছেন রাহুল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাহুল এই পদক্ষেপ করেছেন  কৌশলে,  তৃণমূলের কোর্টে বল ঠেলতে। পাল্টা , তৃণমূল এনিয়ে কী বার্তা দেয় সেদিকেই নজর বিভিন্ন মহলের।
 
তবে সামগ্রিক ভাবে গোটা দেশে মোদি বিরোধী জোটের ছবি তুলে ধরতে রাহুলের আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে বারবার।  তৃণমূলের সঙ্গে জোটের ব্যাপারে তিনি যে খোলা মন নিয়ে চলছেন, এদিন সেকথা বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।