শিক্ষা ব্যবস্থার নানা গলদ ও নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসকাণ্ড ঘিরে সম্প্রতি দেশজুড়ে উত্তাল ছাত্র আন্দোলনের মুখে ইস্তফা দিতে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। তাঁর জায়গায় নতুন শিক্ষামন্ত্রী পদে প্রহ্লাদ জোশীকে (Pralhad Joshi) বসাতেই আগুনে ঘি পড়ল। লোকসভার বিরোধী দলনেতা (Leader of Opposition) রাহুল গান্ধী নরেন্দ্র মোদী সরকারকে বিঁধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন। নতুন শিক্ষামন্ত্রীকে সরাসরি ‘ধর্ষকদের রক্ষক’ (Defender of rapists) বলে অভিহিত করে রাহুলের তীব্র মন্তব্য, ইনি সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রকৃতির মানুষ।
সিদ্ধান্তের সমালোচনা
মঙ্গলবার সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী তোপ দাগেন। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিল। পুলিশি লাঠিচার্জে বহু তরুণী ও ছাত্রী আহত হয়েছেন। আর সেই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে বিজেপি কাকে শিক্ষামন্ত্রী করল? এমন একজন মানুষকে, যিনি ধর্ষকদের সুরক্ষায় সওয়াল করেছিলেন। যে মানুষটা প্রকাশ্যে বলেন, ধর্ষকদের আড়াল করা উচিত, তাঁর চেয়ে নিকৃষ্ট আর কে হতে পারে?
প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে রাহুলের তোপ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় (Union Cabinet) এত মন্ত্রী থাকতে প্রধানমন্ত্রী মোদী কেন এমন একজনকেই বেছে নিলেন, যিনি ধর্ষকদের রক্ষা করেন? প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত সত্যিই তাজ্জব করার মতো।
প্রহ্লাদের বিতর্কিত অতীত
প্রহ্লাদ জোশীকে নিয়ে রাহুল গান্ধীর এই ক্ষোভের উৎস ২০২২ সালের একটি বিতর্কিত ঘটনা। ২০০২ সালের বিলকিস বানো গণধর্ষণ কাণ্ডে (Bilkis Bano Gangrape Case) সাজাপ্রাপ্ত ১১ জন আসামীকে মেয়াদ ফুরনোর আগেই জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিল গুজরাত সরকার। সেই সময় সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে প্রহ্লাদ জোশী দাবি করেছিলেন, যা করা হয়েছে তা আইনি নিয়ম (Legal Provision) মেনেই করা হয়েছে। তিনি সওয়াল করেছিলেন, জেলে নির্দিষ্ট সময় কাটানোর পর মুক্তির যে আইনি বিধান রয়েছে, এক্ষেত্রে সেটাই প্রযোজ্য হয়েছে।
বিজেপির প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে প্রহ্লাদ জোশীই প্রথম ওই সিদ্ধান্তকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ধিক্কার সৃষ্টি হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) গুজরাত সরকারের সেই সিদ্ধান্তকে একহাত নিয়ে খারিজ করে দেয় এবং আসামীদের পুনরায় জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
নিট বিতর্ক
দেশজুড়ে নিট প্রশ্নফাঁস (NEET Paper Leak) বিতর্কের জেরে লাগাতার আন্দোলন চালাচ্ছিল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। ‘চলো সংসদ’ অভিযান থেকে শুরু করে যন্তর মন্তরে গণঅবস্থান, আন্দোলনের প্রবল চাপে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় কেন্দ্র। গত শনিবার শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু তাঁর পদে বসানো হয় প্রহ্লাদ জোশীকে। যার জেরে মোদী সরকার বিতর্কের নতুন সলতে পাকাল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিরোধী শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফেরানো বা ছাত্রদের দাবি মানার বদলে এমন একজন বিতর্কিত মুখকে শিক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ পদে বসানো অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন পদক্ষেপ।