দিল্লির রাজপথের তুমুল বিক্ষোভ এবার আছড়ে পড়ল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নির্বিচারে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে খোদ দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন (writ petition) দায়ের করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গেই ইন্ডিয়া জোটের আরও ১০ জন নেতার নাম রয়েছে পিটিশনে। রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব-সহ বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA bloc) জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে মঙ্গলবারই জরুরি ভিত্তিতে মামলাটির শুনানি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মামলার পথ দেখালেন প্রধান বিচারপতিই
হাজার হাজার সমর্থক ও দলীয় কর্মী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেছিলেন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। প্রাথমিক ভাবে বিরোধী নেতৃত্বের পরিকল্পনা ছিল, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হাতে একটি প্রশাসনিক স্মারকলিপি তুলে দিয়ে গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিচার চাওয়া। কিন্তু প্রধান বিচারপতি সেই সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করে কড়া বার্তা দেন। শীর্ষ আদালতের দরজা সবার জন্য খোলা থাকলেও রাজনৈতিক স্মারকলিপি নেওয়ার অবকাশ নেই, নিয়ম মেনে মামলাকারী হিসেবেই এজলাসে আসতে হবে। আদালতের এই অবস্থান স্পষ্ট হতেই তড়িঘড়ি আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেয় বিরোধী শিবির। সময়ের টানাপড়েনে রাহুল গান্ধী স্বয়ং আদালতে পৌঁছনোর আগেই বিকেল সাড়ে চারটের ডেডলাইনের মধ্যে আইনজীবী এস প্রসন্ন শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রিতে পিটিশনটি দাখিল করেন।
এসআইআর বিতর্ক
মামলার মূল প্রেক্ষাপট নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (Special Intensive Revision-SIR)। বিরোধীদের সরাসরি অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে বেছে বেছে বিরোধী প্রভাবিত কেন্দ্রগুলি থেকে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, কমিশনের অন্য দুই কমিশনার এই প্রক্রিয়ার কার্যপদ্ধতি নিয়ে নথিতে আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু তাতে আমল দেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই সংঘাতের জেরেই রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যাোপাধ্যায়-সহ বিরোধী নেতারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে আন্দোলন তীব্র করেছেন। শীর্ষ আদালতের কাছে বিরোধী নেতৃত্বের মূল আর্জি, নির্বাচন কমিশনের সামগ্রিক কার্যপ্রণালীতে হস্তক্ষেপ করুক আদালত এবং গণহারে ভোটার বাতিলের প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করা হোক।
এককাট্টা বিরোধী জোট
এই মামলায় মূল আবেদনকারী হিসেবে রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি নাম রয়েছে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তৃণমূলের সৌগত রায়, আরজেডির তেজস্বী যাদব, শিবসেনা ইউবিটির সঞ্জয় রাউত, সিপিএমের এমএ বেবি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, জেএমএমের মহুয়া মাজি, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে এবং মুসলিম লিগের মহম্মদ বশিরের। আবেদন জমা পড়ার পরেই প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি রাতারাতি ত্রুটিমুক্ত করে মামলাটি নথিভুক্ত করার কাজ শুরু করেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সোমবার আবেদন চূড়ান্ত হলে মঙ্গলবারই এজলাসে উঠবে বিরোধীদের পিটিশন। অতএব, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার সরাসরি আইনি লড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।