ছাত্রদের ‘ক্ষমা’ করার উনি কে? উল্টে প্রধানমন্ত্রীরই ক্ষমা চাওয়া উচিত, তোপ রাহুলের

LOP Rahul Gandhi With Students (ANI)

দেশ জুড়ে ছাত্ররা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। কর্মসংস্থান নিয়ে তাঁরা হতাশ। পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়েও তাঁদের অনেক প্রশ্ন রয়েছে। প্রশ্নফাঁস বিতর্কে গোটা দেশ উত্তাল। এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সম্প্রতি একটি মন্তব্য করেন। তিনি আন্দোলনকারীদের, মূলত তাঁদের যঁরা কটূ কথা বলেছেন, তাঁদের ‘ক্ষমা’ করে দেওয়ার কথা বলেন। এবার এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর মতে, ছাত্রদের ক্ষমা করার এই বাতুলতা প্রধানমন্ত্রী কী করে দেখাচ্ছেন! বরং এই পরিস্থিতির জন্য সরকারেরই ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও এদিন বিঁধেছেন রাহুল। তাঁর তোপ, অমিত শাহের নির্দেশেই পড়ুয়াদের উপর নির্বিচারে আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

ছাত্রদের উপর ‘বর্বরোচিত’ হামলা

দেশ জুড়ে পরীক্ষা দুর্নীতি নিয়ে বিক্ষোভ চলছে। ছাত্ররা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এবার কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তিনি সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর মতে, ছাত্রদের ওপর হামলার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই দিয়েছেন। সংসদে (Parliament) এই বিষয়ে সরকারের জবাব চেয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।


ছাত্রদের মুখে নির্যাতনের কথা

সম্প্রতি রাহুল গান্ধী বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ছাত্রের সঙ্গে দেখা করেন। ছাত্ররা তাঁকে নিজেদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। পুলিশ তাঁদের বেধড়ক মারধর করেছে। তাঁদের নানাভাবে রীতিমতো ভয় দেখানো হয়েছে। রাহুল জানান, ছাত্ররা কোনও অপরাধ করেননি। তাঁরা শুধু একটি সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থা চাইছিলেন। তাঁদের ওপর এমন অমানবিক অত্যাচার মেনে নেওয়া যায় না।

শাহকে নিশানা

রাহুল গান্ধী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠিও দিয়েছেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানতে চেয়েছেন, ছাত্রদের ওপর কাঁদানে গ্যাস (Tear Gas) এবং পেলেট গান (Pellet Gun) চালানোর নির্দেশ কে দিল? পুলিশি পদক্ষেপের (Police Action) জন্য তিনি শাহকেই সরাসরি দায়ী করেছেন। রাহুলের মতে, ছাত্রদের ওপর এমন হামলা আসলে দেশের ভবিষ্যতের ওপর হামলা।

সংসদে ঝড় 

বাদল অধিবেশনে (Monsoon Session) এই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলতে চায় কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের মতো অন্যান্য বিরোধী দলও পুলিশি হামলার কড়া প্রতিবাদ করেছে। বিরোধীরা সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি করছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে সংসদের অন্দরে বড়সড় ঝড় উঠতে চলেছে।

ক্ষমা নিয়ে তরজা

অন্য একটি অনুষ্ঠানেও মোদী সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি জানান, ছাত্ররা আজ তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছেন। তাঁদের হাতে কোনও কাজ নেই। তাঁরা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পরীক্ষাব্যবস্থার একটি সুস্থ পরিকাঠামো চাইছেন। রাহুলের দাবি, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ছিনিমিনি খেলা উচিত নয়। মোদীজি কমবয়সি ছাত্রদের ক্ষমা করার কথা বলে বিরাট মহান হতে চাইছেন! আসলে উনি দোষী। একদিকে উনি ক্ষমা করার কথা বলছেন, অন্যদিকে গুন্ডা পাঠিয়ে বেছে বেছে পড়ুয়াদের নির্যাতন করা হচ্ছে। কোনও চাপে পড়ে পড়ুয়াদের তাই ওঁর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করার কোনও দরকার নেই।

বিতর্কের রেশ

রাহুল আরএসএস (RSS)-এর বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, আরএসএস ভারতের মতো বহুমাত্রিক দেশের উপর নিজেদের পছন্দের একপাক্ষিক ইতিহাস চাপিয়ে দিতে চাইছে। ভারত একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এখানকার প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব ভাষা এবং সংস্কৃতি রয়েছে। রাহুল উদাহরণ হিসেবে তামিলনাড়ুর কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, কেউ দেশের ইতিহাস পদদলিত করতে পারবে না। কারণ, ভারতবাসী তা কখনোই মেনে নেবে না।

বিক্ষোভ থামছে না

এই মুহূর্তে দেশের নানা প্রান্তে ছাত্র বিক্ষোভ (Student Protest) চলছে। বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে তরুণ প্রজন্ম রাস্তায় নেমেছে। পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) ছাত্রসমাজও এই বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এ রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরাও দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতার দাবি তুলছেন। এমন পরিস্থিতিতে রাহুলের এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধী দলগুলিও এই ইস্যুতে ক্রমশ কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে।