চাপের রাজনীতি ও বাণিজ্যচুক্তি— এপস্টেইন বিতর্ক-আদানি মামলা টেনে মোদীকে নিশানা রাহুলের

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘চাপে পড়েই’ আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে সই করতে সম্মত হতে হয়েছেন। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত বিতর্ক এবং নিউ ইয়র্কের আদালতে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে চলা মামলার জেরে আন্তর্জাতিক স্তরে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার ফলেই ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তিতে দ্রুত সায় দিতে বাধ্য হয়েছে মোদী সরকার।

সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, ‘আমেরিকায় আদানিজির বিরুদ্ধে মামলা চলছে। এই মামলা আসলে মোদিজির বিরুদ্ধেও। তার সঙ্গে এপস্টেইন ফাইলসের বিষয়টিও রয়েছে। এখনও অনেক তথ্য প্রকাশ পায়নি। এই দু’টি কারণেই প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে।’ তাঁর দাবি, এই চাপের ফলেই দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বাণিজ্যচুক্তিতে হঠাৎ করেই সই হয়ে গেল।

কংগ্রেসের বক্তব্য, এপস্টেইন সংক্রান্ত আমেরিকান আইন দপ্তরের নথিতে প্রধানমন্ত্রীর নাম থাকার অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যদিও বিদেশ মন্ত্রক আগেই জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরনের সব অভিযোগই ‘ভিত্তিহীন ও অবমাননাকর’। কিন্তু তাতেও বিরোধীদের আক্রমণ থামেনি। রাহুলের অভিযোগ, এই আন্তর্জাতিক চাপের জেরেই মোদীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


রাহুল আরও বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে এই বাণিজ্যচুক্তি আটকে ছিল। হঠাৎ করে রাতারাতি তাতে সই হয়ে গেল। এটা স্পষ্ট যে, মোদিজি ফ্যাসাদে পড়েছেন। দেশের মানুষকে এই সত্যটা বুঝতে হবে।’ তাঁর দাবি, ভারতীয় স্বার্থ কতটা রক্ষা পেল, সে বিষয়ে এখনও কোনও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেয়নি সরকার।

প্রসঙ্গত, সোমবার গভীর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভারত-আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। তার আগে ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সার্জিয়ো গোর জানান, মোদী ও ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে। এরপরই ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে ঘোষণা করেন, ভারতের উপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদী সমাজমাধ্যমে জানান, তাঁর ‘প্রিয় বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প’-এর সঙ্গে কথা হয়েছে এবং শুল্ক কমানোর জন্য তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে চুক্তির খুঁটিনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গিয়েছে। কারা এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, কী কী বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে, সেই প্রশ্নগুলিই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

এই পরিস্থিতিতেই এপস্টেইন বিতর্ক ও আদানি মামলার প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মাথা নত করেই বাণিজ্যচুক্তিতে সই করেছে মোদী সরকার।