প্রধানমন্ত্রীর সংযমের বার্তা ঘিরে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় রাহুল-সহ বিরোধীরা

দেশের সঙ্কট মোকাবিলায় রবিবার বেঙ্গালুরুতে দেশবাসীকে সতর্ক করে একাধিক পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে এবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ অন্যন্য বিরোধী দলগুলি। তাঁদের প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গভীর অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র ? কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদনকে ব্যর্থতার প্রমাণ বলে উল্লেখ করেছেন।

রাহুলের অভিযোগ, দেশের অর্থনীতি নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি গোপন করছে কেন্দ্র। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে সাধারণ মানুষকে সোনা কেনা বন্ধ করার আবেদন জানাতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারকে দেশের সামনে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা কী।

রাহুল গান্ধী এক্স-এ লেখেন, ‘মোদীজি গতকাল জনগণের কাছে ত্যাগের দাবি করেছেন – সোনা কিনবেন না, বিদেশে যাবেন না, কম পেট্রল ব্যবহার করুন, সার ও ভোজ্যে তেলের ব্যবহার কমান, মেট্রোতে যাতায়াত করুন, বাড়ি থেকে কাজ করুন। এগুলো নিছক উপদেশ নয়, বরং ব্যর্থতার প্রমাণ।’  তাঁর কথায়, ‘দেশের অর্থনীতি ও কূটনীতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে এখন সাধারণ মানুষকেই বোঝা বইতে বলা হচ্ছে।এটাই একজন কম্প্রোমাইজড প্রধানমন্ত্রীর বাস্তব চিত্র।’


কংগ্রেস শিবিরের বক্তব্য, বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্কট বা লেনদেনের ভারসাম্য নিয়ে যদি কোনও চাপ তৈরি হয়ে থাকে, তবে তা সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত। বিরোধীদের দাবি, সরকার শুধু আবেগের আবেদন জানিয়ে দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল এবং তার মোকাবিলায় কেন্দ্রের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী, তা দেশবাসীর জানার অধিকার রয়েছে।

রাহুল গান্ধীর সুরে সুর মিলিয়ে কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরম প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন ‘গুরুতর নির্দেশ’ কেন দেওয়া হল ? কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল দাবি করেছেন যে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে মোদী ‘সম্পূর্ণ দিশেহারা’ ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার ভারতের জ্বালানি স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। সমাজমাধ্যমে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে অখিলেশ লেখেন, ‘ভোট শেষ হতেই সঙ্কটের কথা মনে পড়ে গেল!’ তাঁর প্রশ্ন, যদি পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে থাকে তবে নির্বাচনী প্রচারের সময় কেন সেই সংযম দেখা যায়নি ?

বিজেপির নির্বাচনী প্রচার নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেছেন সমাজবাদী পার্টি নেতা। তিনি লেখেন, ‘ভোটের সময়ে বিজেপি নেতারা যে হাজার হাজার চার্টার্ড বিমানে চেপে ঘুরলেন, সেগুলো কি জল দিয়ে চলত ?’ পাশাপাশি হোটেলে থাকা, বিপুল প্রচার ব্যয় এবং জ্বালানি ব্যবহারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। 

অখিলেশ আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই জ্বালানি সাশ্রয় এত গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে বিজেপি নেতারা কেন পুরো প্রচার ভার্চুয়াল মাধ্যমে করেননি ? তাঁর কথায়, ‘এই সব কিছু শুধু সাধারণ মানুষকেই কেন মানতে হবে? ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের দাবি, সরকারকে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।