পাঞ্জাবে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় নেই বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডার নাম। তাঁর নাম ‘এএসডিডি’ বা ‘অ্যাবসেন্ট, শিফটেড, ডিসিসড অ্যান্ড ডুপ্লিকেট’ তালিকায় ‘স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত’ বা ‘পার্মানেন্টলি শিফটেড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নিজের পুরনো দল আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছেন চাড্ডা। যদিও আপের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়াই নির্বাচন কমিশনের অধীনে। এতে রাজ্য সরকারের কোনও ভূমিকা নেই।
গত ১৩ আগস্ট পাঞ্জাবের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। এসআইআরের পরে সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ২০ লক্ষ ৬৬ হাজার ভোটারের নাম, যা প্রাক্-এসআইআর তালিকার প্রায় ৯.৬ থেকে ৯.৭ শতাংশ। অনুপস্থিত, অন্যত্র স্থানান্তরিত, মৃত এবং একই ব্যক্তির একাধিক জায়গায় নাম থাকার মতো বিভিন্ন কারণে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকাতেই রয়েছে চাড্ডার নাম।
চাড্ডার দাবি, তিনি পাঞ্জাবের মোহালির ভোটার। তাঁর ভোটার পরিচয়পত্রও মোহালিতে নথিভুক্ত। তাহলে তাঁকে কীভাবে ‘স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হল সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে চাড্ডা জানান, ঘটনাটি নিছক প্রশাসনিক বা কেরানিগত ভুল বলে মনে হচ্ছে না বরং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দলের নেতৃত্ব তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশকে ব্যবহার করছে।
চাড্ঢার আরও দাবি, এসআইআরের নির্দেশিকায় সাংসদ, বিধায়ক-সহ জনপ্রতিনিধিদের নামের ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষার বিধান রয়েছে। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি। খসড়া তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ যাওয়ার পিছনে ‘ইচ্ছাকৃত’ পদক্ষেপ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে বিজেপি সাংসদের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে আপ। কেজরিওয়ালের দলের বক্তব্য, এসআইআর পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কোন ভোটারের নাম থাকবে আর কার নাম বাদ যাবে, সেই সিদ্ধান্তে পাঞ্জাব সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। আপের পাল্টা অভিযোগ, চাড্ডা দিল্লিতে বসবাস করলেও দিল্লিতে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় সফল হননি। সেই বিষয়টির দায় এড়াতেই তিনি পাঞ্জাবের আপ সরকারকে রাজনৈতিকভাবে নিশানা করছেন।
তবে আপাতত চাড্ডার নাম বাদ পড়া মানেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যাচ্ছে না। এটি খসড়া তালিকা। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নাম বাদ পড়া বা কোনও তথ্য ভুল থাকার বিরুদ্ধে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে নিজের নাম ফের পাঞ্জাবের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন চাড্ডা। অক্টোবরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা।
আরও পড়ুন: মাঝ আকাশে মে-ডে কল পাইলটের, জরুরি অবতরণ ইন্ডিগোর বিমানের
খসড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় রাঘব চাড্ডার রাজ্যসভার সাংসদ পদ নিয়ে অবশ্য আপাতত কোনও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে না। কারণ ২০০৩ সালে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে সংশোধনের পর রাজ্যসভার সদস্য বা প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। ফলে পাঞ্জাবের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও শুধু সেই কারণে তাঁর সাংসদ পদ খারিজ হবে না।
পাঞ্জাবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে চাড্ডাকে ঘিরে বিজেপির রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে জল্পনাও রয়েছে। সেই আবহে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ার ঘটনা দুই দলের সংঘাতকে আরও উস্কে দিয়েছে। এখন নজর ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাড্ডার দাবির নিষ্পত্তি এবং অক্টোবরে প্রকাশ হতে যাওয়া চূড়ান্ত ভোটার তালিকার দিকে।