রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ গেল পাঞ্জাবের যুবকের

রাশিয়া-ইউক্রেন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ফের এক ভারতীয় যুবকের মৃত্যুর খবর সামনে এল। পাঞ্জাবের জলন্ধর জেলার গোরায়া এলাকার বাসিন্দা ৩০ বছরের মনদীপ কুমারের মৃত্যু হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রে। পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। পরে জোর করে রুশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মসংস্থানের আশায় ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক আত্মীয় ও কয়েকজন পরিচিতের সঙ্গে দেশ ছাড়েন মনদীপ। প্রথমে তাঁরা আর্মেনিয়ায় পৌঁছন এবং সেখানে কয়েক মাস কাজও করেন। পরে ডিসেম্বর মাসে ওই দল রাশিয়ায় যায়। সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে পরিবারের সঙ্গে মনদীপের যোগাযোগ কমতে শুরু করে।

মনদীপের আত্মীয়দের দাবি, যাঁরা তাঁর সঙ্গে গিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই পরে ভারতে ফিরে এলেও মনদীপ রাশিয়াতেই থেকে যান। ঠিক কী পরিস্থিতিতে তিনি সেখানে আটকে পড়েন, তা স্পষ্ট হয়। পরবর্তীকালে পরিবার জানতে পারে, মনদীপকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে রুশ সেনায় নিয়োগ করা হয়েছে। সেখানেই যুদ্ধ চলাকালীন মৃত্যু হয়েছে তাঁর।


পরিবারের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁদের দাবি, মনদীপের শারীরিক প্রতিবন্ধক ছিল। সেই অবস্থায় তাঁকে কীভাবে সেনাবাহিনীতে নেওয়া হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। পরিবারের বক্তব্য, এই ঘটনার নেপথ্যে ভ্রমণ সংস্থার দালালচক্রের ভূমিকা রয়েছে, যারা কাজের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে যুবকদের বিদেশে পাঠাচ্ছে।

মনদীপের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয় পরিবার। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও সাহায্য চাওয়া হয়। মনদীপের দাদা জানান, তিনি নিজেও রাশিয়ায় গিয়ে ভাইয়ের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এখন তিনি বিদেশ মন্ত্রক ও রুশ প্রশাসনের কাছে ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

দীর্ঘ কয়েক মাস অনিশ্চয়তার পর সরকারিভাবে মনদীপের কুমারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। সম্প্রতি তাঁর মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার জানিয়েছে, জলন্ধরে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। প্রশ্ন উঠছে— বিদেশে কাজের নামে কত যুবককে এভাবে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।