কেরলের নাম বদলে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাব, ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত

কিছুদিনের মধ্যেই কেরলে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই রাজ্যের নাম পরিবর্তন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা। সূত্রের খবর, খুব শিগগিরই ‘কেরল’ নাম বদলে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রীয় স্তরে আলোচনা হতে পারে। যদিও এখনও নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা হয়নি, তবু ভোটের আগে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এগোতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।

আসলে এই দাবির সূত্রপাত নতুন নয়। বহুদিন আগেই  কেরল বিধানসভায় রাজ্যের নাম ‘কেরলম’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যুক্তি একটাই—রাজ্যের প্রধান ভাষা মালয়ালম, আর ‘কেরলম’ নামটির মধ্যেই সেই ভাষার স্বতন্ত্র পরিচয় ও সাংস্কৃতিক আবেগ নিহিত রয়েছে। প্রথম প্রস্তাবে কিছু কারিগরি সংশোধনের কথা জানায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। পরে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে ২০২৪ সালের ২৫ জুন দ্বিতীয়বার প্রস্তাব গৃহীত হয়।

মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন  জানিয়েছেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকেই মালয়ালমভাষীদের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ রাজ্যের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল। ‘কেরলম’ নাম সেই ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। তাঁর মতে, এই নামের মধ্যেই রাজ্যের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের পূর্ণ প্রকাশ ঘটে। সংবিধানের ৩ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাজ্যের নাম বদলের আবেদন জানিয়েছে কেরল বিধানসভা।


অন্যদিকে কেরল বিজেপির সভাপতি রাজীব চন্দ্রশখের-সহ রাজ্য নেতৃত্বও নাম পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছে। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত মালয়ালি আবেগকে আরও উসকে দিতে পারে। সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষই এই ইস্যুকে প্রচারের হাতিয়ার করতে পারে।

উল্লেখ্য, মালয়ালম ভাষায় রাজ্যের নাম বরাবরই ‘কেরলম’। তবে সংবিধানের প্রথম তফসিলে ‘কেরালা’ নামটি উল্লেখ রয়েছে। সেই সাংবিধানিক নাম পরিবর্তন করেই সব ভাষায় ‘কেরলম’ স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিই এখন দক্ষিণের এই রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক আলোচ্য বিষয়।

কেরলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের নাম পরিবর্তন ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, ভোটের ঠিক আগে ‘কেরল’ থেকে ‘কেরলম’ নাম করার মাধ্যমে মালয়ালি আবেগকে শান দিতে চাইছে সরকার। নির্বাচনী প্রচারের আগে এই ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মত অনেকের।

যদি ভোটের আগেই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তা হলে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই এর রাজনৈতিক সুফল তোলার চেষ্টা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের ঐতিহ্য, ভাষাগত গর্ব এবং আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে সমর্থন বাড়াতে চাইবে বিভিন্ন দল। মালয়ালম ভাষায় বরাবরই ‘কেরলম’ নামটি প্রচলিত—এই যুক্তিকে সামনে রেখে বিষয়টিকে সাংস্কৃতিক মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাম শিবির হোক বা  গেরুয়া শিবির উভয় পক্ষই মালয়ালি আবেগকে নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে রাখার চেষ্টা করবে। ফলে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং তা ভোটের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।