সংসদে তুলকালাম: কামাকোটিকে গোমূত্র বিশেষজ্ঞ বলে কটাক্ষ, পাল্টা প্রিয়াঙ্কাকে খোলা চিঠি ২১৫ শিক্ষাবিদের

Priyanka Gandhi Vs V Kamakoti (AI Retouched)

সংসদের ভিতরে একটা মন্তব্য, আর তার জেরে দেশের শিক্ষা মহলে যেন ঝড় বয়ে গেল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার (Priyanka Gandhi Vadra) একটি মন্তব্য ঘিরে এখন তুমুল বিতর্ক, আর তার আঁচ এসে পড়ছে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা মহলেও।

লোকসভায় কী বলেছিলেন প্রিয়াঙ্কা

গত মঙ্গলবার লোকসভায় পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যামেন্ডমেন্ট বিলের (Public Examinations Amendment Bill) উপর আলোচনার সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় সরকার গঠিত পরীক্ষা সংস্কার সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্স নিয়ে। এই কমিটির মাথায় আছেন ইনফোসিসের সহপ্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকণী (Nandan Nilekani)। প্রিয়াঙ্কার কথায়, কমিটিতে রয়েছেন প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান, একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার মালিক আর একজন গোমূত্র বিশেষজ্ঞ। নাম না করলেও এই শেষ মন্তব্যটি স্পষ্টতই ইঙ্গিত করছিল আইআইটি মাদ্রাজের (IIT Madras) ডিরেক্টর অধ্যাপক ভি কামাকোটির (V Kamakoti) দিকে। ২০২৫ সালে কামাকোটি গোমূত্রের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাংগাল গুণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, সেই প্রসঙ্গই টেনে আনেন প্রিয়াঙ্কা।


বিজেপির পাল্টা আক্রমণ

এই মন্তব্যের পরই লোকসভায় সরব হন বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর (Anurag Thakur)। তিনি বলেন, কামাকোটি ভারতের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী, আর তাঁকে নিয়ে এমন মন্তব্য দুঃখজনক। বিজেপির অন্য নেতারাও একই সুরে প্রিয়াঙ্কার সমালোচনা করেন। আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর হিসেবে কামাকোটি ভারতের প্রথম দেশীয় মাইক্রোপ্রসেসর ‘শক্তি’ (Shakti Microprocessor) তৈরির গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আর এই তথ্যই বারবার তুলে ধরছেন তাঁর গুণগ্রাহীরা।

২১৫ শিক্ষাবিদের খোলা চিঠি

এই বিতর্কের মধ্যেই দেশের ২১৫ জনেরও বেশি বর্তমান ও প্রাক্তন উপাচার্য এবং শিক্ষাবিদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে একটি খোলা চিঠি লেখেন। বিজ্ঞানভিত্তিক মানসিকতা, পাণ্ডিত্য ও জনপরিসরের প্রচলিত আলোচনা নিয়ে লেখা এই চিঠিতে বলা হয়েছে, কামাকোটিকে গোমূত্র বিশেষজ্ঞ বলে ডাকাটা নিছক ব্যঙ্গ হোক বা রাজনৈতিক মন্তব্য, তা একজন ব্যক্তির চেয়ে অনেক বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গবেষণা ও পাণ্ডিত্যকে যুক্তি দিয়ে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে, কিন্তু তাকে খাটো করে দেখানো ঠিক নয়। স্বাক্ষরকারীদের দাবি, কামাকোটির নামে দেড়শোরও বেশি গবেষণাপত্র এবং পঞ্চাশটির বেশি গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের নজির রয়েছে।

দুই পক্ষের বয়ান

কংগ্রেসের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, প্রিয়াঙ্কার আসল লক্ষ্য ছিল সরকার গঠিত কমিটির যোগ্যতা ও গঠনশৈলী নিয়ে প্রশ্ন তোলা, ব্যক্তি আক্রমণ নয়। অন্যদিকে বিজেপি ও শিক্ষাবিদদের একাংশের বক্তব্য, এই মন্তব্য আসলে একজন প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানীর মর্যাদাকেই আঘাত করেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্ক আসলে বিজ্ঞান আর প্রাচীন প্রাচ্য বা বৈদিক জ্ঞানচর্চার মধ্যে টানাপোড়েনের পুরনো প্রশ্নটাকেই আবার সামনে এনে ফেলেছে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রাসঙ্গিকতা

যে বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় এই বিতর্ক, সেটি সরাসরি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোখার আইন সংক্রান্ত। পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় বসেন, তাই এই সংস্কার কমিটির কাজকর্ম রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক মানসিকতা বনাম পরম্পরাগত বিশ্বাসের এই বিতর্ক পশ্চিমবঙ্গের বৌদ্ধিক পরিমণ্ডলেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে, কারণ যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য বাংলার সমাজ-সংস্কৃতির একটা পরিচিত অধ্যায়।