ত্রিদেশীয় সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার সকালে দিল্লি থেকে রওনা দেন তিনি। তাঁর প্রথম গন্তব্য জর্ডন। রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ইবনে আল হুসেনের আমন্ত্রণে জর্ডন সফর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর যাবেন ইথিওপিয়া এবং ওমানে। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রীর বিমান ওড়ার কথা ছিল। কম দৃশ্যমানতার কারণে সেই সময় প্রায় এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। ৮টার বদলে সকাল ৯টা নাগাদ বিমানে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। তারও কিছুক্ষণ পর বিমান জর্ডনের উদ্দেশে রওনা দেয়। জর্ডনের প্রধানমন্ত্রী জাফর হুসেন বিমানবন্দরে স্বাগত জানায় প্রধানমন্ত্রী মোদীকে। জর্ডনের পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন,‘আম্মানে অবতরণ করেছি। বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য জর্ডনের প্রধানমন্ত্রী জাফর হুসেনের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি নিশ্চিত যে এই সফর আমাদের দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।‘
ভারত-জর্ডন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ তম বছর। স্বাভাবিক ভাবেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে শান্তি, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফর শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘আমি তিন দেশের সফরে জর্ডন, ইথিওপিয়া ফেডারেল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক এবং ওমান যাচ্ছি। এই তিনটি দেশের সঙ্গে ভারতের বহু প্রাচীন সভ্যতাগত সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি বিস্তৃত সমসাময়িক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও রয়েছে।‘
জর্ডনের পর ইথিওপিয়া যাবেন মোদী। ১৬ ডিসেম্বর পৌঁছবেন আফ্রিকার এই দেশে। এই প্রথম ইথিওপিয়া সফর করছেন মোদী। ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর শরিক হিসেবে দু’দেশ আগেই পারস্পরিক সহযোগিতায় একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব এবং সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলির সঙ্গে জরুরি বৈঠক করবেন নরেন্দ্র মোদী। ইথিওপিয়া সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ইথিওপিয়া ফেডারেল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকে আমার প্রথম সফর। আদ্দিস আবাবা আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দপ্তরও। ২০২৩ সালে ভারতের জি-২০ প্রেসিডেন্সির সময়, আফ্রিকান ইউনিয়নকে জি-২০-র স্থায়ী সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ডঃ আবি আহমেদ আলির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করার পাশাপাশি প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও দেখা করব।‘
ইথিওপিয়া সফর শেষে যাবেন আরবের ওমানে। ১৭ ডিসেম্বর ‘সুলতান’ হাইথাম বিন তারিকের আমন্ত্রণে দ্বিতীয়বার সেখানে যাচ্ছেন মোদী। এবছর ভারত-ওমান সম্পর্কের ৭০ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই দু’দেশ বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কে আবদ্ধ। শক্তি, কৃষি, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি-সহ একাধিক বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওমান সফর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘মাস্কাটে, আমি ওমানের সুলতানের সঙ্গে আলোচনা করব। আমাদের কৌশলগত সাহায্যের পাশাপাশি আমাদের শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হবে। আমি ওমানের প্রবাসী ভারতীয় একটি সমাবেশে ভাষণ দেব।‘
১৮ তারিখ দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে একাধিক বার বিদেশ সফরে গিয়েছেন তিনি। বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেই এই সফর। তবে মোদীর বিদেশ সফর নিয়ে বিরোধীরা প্রায়শই কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন। তা সত্ত্বেও মোদীর বিদেশ সফর কূটনৈতিক সুসম্পর্ক স্থাপনে সাহায্য করেছে। সেই লক্ষ্যেই বছর শেষে ফের ত্রিদেশীয় সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।