ওষুধের দোকানে বাধ্যতামূলক হতে পারে প্রেসক্রিপশন, নজর রাখবে সিসিটিভি

Photo: Pexels

চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে এবার ওষুধের দোকানে নজরদারি বাড়াতে চাইছে কেন্দ্র। প্রেসক্রিপশন-ভিত্তিক ওষুধ বিক্রির সময় লাইসেন্সপ্রাপ্ত খুচরো ওষুধের দোকানে সিসিটিভি ক্যামেরা রাখা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক। শুধু ক্যামেরা বসালেই হবে না। সেই ফুটেজ অন্তত ৩ মাস সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। তবে পাইকারি ওষুধ বিক্রেতাদের এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।

৮ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের প্রকাশিত খসড়া বিজ্ঞপ্তিতে ‘ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫’-এর ৬৫ নম্বর বিধিতে এই সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নথিভুক্ত চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের ভিত্তিতে কোনও ওষুধ খুচরো বিক্রি বা সরবরাহ করার পুরো প্রক্রিয়া সিসিটিভির নজরদারিতে থাকতে হবে। পরে প্রয়োজন হলে ওই রেকর্ড দেখে কোন ওষুধ কখন এবং কীভাবে বিক্রি হয়েছে তা যাচাই করা যাবে।

সরকারের লক্ষ্য, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধের বেআইনি বিক্রি ঠেকানো এবং ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা আনা। নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে তদন্তের জন্য একটি অতিরিক্ত প্রমাণও থাকবে। বর্তমানে শিডিউল এইচ, এইচ১ এবং এক্স-এর আওতায় থাকা ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত কড়া নিয়ম রয়েছে। তবে নতুন প্রস্তাবিত সিসিটিভি ব্যবস্থা শুধু ওই তিনটি তালিকার ওষুধে সীমাবদ্ধ থাকছে না।


চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন হয় এমন ওষুধের খুচরো বিক্রির ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে কাশির ওষুধ বা সিরাপ-সহ বিভিন্ন প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধও এর আওতায় আসতে পারে। এই প্রস্তাবটি ড্রাগস কনসালটেটিভ কমিটি এবং ড্রাগস টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি বোর্ডে পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহারের ঝুঁকি এবং শিশুদের ক্ষেত্রে ভুল ওষুধ বা ভুল মাত্রা ব্যবহারের মতো বিষয়গুলি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে নিয়মটি এখনও কার্যকর হয়নি। খসড়া প্রস্তাব নিয়ে সাধারণ মানুষ, ওষুধ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মতামত চেয়েছে কেন্দ্র। সেই মতামত পর্যালোচনার পর প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হবে কি না তা সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।