দুর্গ ধসে গেল বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনের, বাঁকিপুরই কি জেন জি-র বদলাপুর?

Photo: Statesman

বিহারের রাজনীতিতে বড় চমকের ইঙ্গিত। ইতিমধ্যেই বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে বিজেপির দখলে থাকা বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ভোটগণনার প্রাথমিক প্রবণতায় এগিয়ে রয়েছেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। জানা গিয়েছে, এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে সাড়ে চার হাজার ভোটে এগিয়ে গেলেন জন সুরাজের প্রার্থী ও প্রাক্তন ভোট-কুশলী প্রশান্ত কিশোর। জীবনের প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই তিনি বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটিতে লড়ছেন। ফলে এই কেন্দ্রের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগণনা শুরু হয়েছে। মোট ৩১ দফায় গণনা হবে। প্রথম দফার গণনা শেষে প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ২ হাজার ২২৫টি ভোট। বিজেপি প্রার্থী নীরজকুমার সিনহা পেয়েছেন ১ হাজার ৩৬৩টি ভোট। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে ৮৬২টি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন জন সুরাজ পার্টির প্রার্থী। এই কেন্দ্রে এখনও পিছিয়ে রয়েছেন দলের প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহা। অন্যদিকে, আরজেডি প্রার্থী রেখা গুপ্তা ৫০৫টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।

সোমবার বিহারের বাঁকিপুর ছাড়াও গুজরাটের মঞ্জলপুর ও মধ্যপ্রদেশের দাতিয়ায় উপনির্বাচন হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত গুজরাটের মঞ্জলপুরে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়ায় এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস। বাঁকিপুর আসন বিহারের রাজনীতিতে বিজেপির অন্যতম নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৫ সাল থেকে টানা ৩১ বছর ধরে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়ে আসছে বিজেপি। ফলে এই উপনির্বাচনে প্রাথমিক প্রবণতায় প্রশান্ত কিশোরের এগিয়ে থাকা শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, বরং বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে সম্ভাব্য পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জন সুরাজ অভিযানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প রাজনীতির বার্তা দিয়ে আসা প্রশান্ত কিশোরের কাছে এই নির্বাচন ছিল তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রথম বড় পরীক্ষা। যদি তিনি শেষ পর্যন্ত বিজেপির এই দীর্ঘদিনের দুর্গ দখল করতে সক্ষম হন। তবে তা শুধু জন সুরাজ পার্টির জন্যই নয়, আগামী বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।

আরও পড়ুন: Explainer: বাঁকিপুরই কি তবে বদলাপুর? জেন জি আর প্রশান্ত কিশোর কী ভাবে বদলে দিতে পারেন দেশের রাজনীতির অঙ্ক

এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছিল ৩৪ শতাংশ, যা গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় অনেকটাই কম। প্রশান্ত বলেছেন, ‘বাঁকিপুরের মানুষ যদি পাশা পাল্টে দেন, তাহলে বিজেপির কপালে দুঃখ আছে।’ তবে ভোটগণনা এখনও অনেকটাই বাকি। মোট ৩১ দফার গণনা শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হবে। তবুও প্রথম রাউন্ডের ফল বিজেপির শিবিরে কিছুটা অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বিহারের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, ৩১ বছরের বিজেপি দুর্গ কি ভাঙতে চলেছেন প্রশান্ত কিশোর?