বিহারে বাঁকিপুরে বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। জয় পেয়েইি তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তাঁর দল কোনও রাজনৈতিক জোটে যাবে না। তিনি দাবি করেন, বিজেপি, কংগ্রেস এবং আরজেডি-র অসন্তুষ্ট সমর্থকদের সমর্থন পেয়েই তিনি জয়ী হয়েছেন। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক জেন-জি আন্দোলনের প্রভাবও বিজেপির পরাজয়ে কিছু ভূমিকা নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বাঁকিপুর প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) প্রায় ১৯ হাজার ভোটে বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমারকে পরাজিত করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে এই আসনে ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে আসছিল বিজেপি। নির্বাচনী রাজনীতিতে এটিই প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) প্রথম জয়।
আরও পড়ুন: আরএসএসের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে প্রশ্ন, নেতাজি অবমাননার ইস্যুতে সরব মমতা
‘জনগণের সঙ্গেই আমাদের জোট’
ফল ঘোষণার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) বলেন, ‘আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করব না। আমাদের একমাত্র জোট হবে বিহারের মানুষের সঙ্গে। বাঁকিপুরের মানুষ প্রতিষ্ঠিত দলগুলিকে ছেড়ে আমাদের উপর আস্থা রেখেছেন।‘
তিনি (Prashant Kishor) আরও বলেন, বিধায়ক হিসেবে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেবেন না। বাঁকিপুরকে বেঙ্গালুরুর মতো শহর বানানোর কথা না বললেও, কয়েক মাসের মধ্যেই এলাকার উন্নয়নের পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে বলে আশ্বাস দেন।
আরও পড়ুন: শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে খুশি এনসিপিআই সাংসদরা, কী জানালেন তাঁরা?
এই রায় মূলত সম্রাট চৌধুরীর বিরুদ্ধে
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকে নিশানা করে প্রশান্ত (Prashant Kishor) বলেন, ‘এই জনাদেশ মূল তাঁর বিরুদ্ধেই। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে আমার কিছু বলার নেই। তবে বিহারের শিক্ষিত মানুষের বড় অংশ তাঁর অতীত এবং যোগ্যতার অভাব নিয়ে অসন্তুষ্ট।‘
বাঁকিপুর উপনির্বাচনকে তিনি আগেই বিহারের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে এক ধরনের ‘গণভোট’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বিজেপির প্রবীণ নেতা নিতিন নবীন রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর বিধায়ক পদ শূন্য হয়ে যাওয়ায়।
মোদীর জন্য সতর্কবার্তা
প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) দাবি, বাঁকিপুরের ফল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জন্যও একটি সতর্কবার্তা। তাঁর কথায়, যদি সম্রাট চৌধুরীকে কুশওয়াহা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়ে থাকে, তাহলে এই সম্প্রদায় থেকেই পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।