মহারাষ্ট্রে টেট প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে পুলিশের জালে ৩

নিট বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই টেট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এবার মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা(টেট)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ভিওয়ান্ডির কোঙ্গাঁও এলাকা থেকে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার তদন্তে পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল(এসআইটি) গঠন করেছে।

ঠাণের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার অশোক দুধে জানান, শনিবার পুলিশ গোপন সূত্রে জানতে পারে, কয়েকজন ব্যক্তি ভিওয়ান্ডির কোঙ্গাঁও এলাকায় টেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রি করতে আসবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে ফাঁদ পাতে। এরপরেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযান চলাকালীন পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ও নগদ টাকা উদ্ধার করেছে। সেই সঙ্গে টেট পরীক্ষার চারটি প্রশ্নপত্রও পুলিশ উদ্ধার করেছে। শিক্ষা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা উদ্ধার হওয়া প্রশ্নপত্র যাচাই করে নিশ্চিত করেছেন সেগুলি পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্র।


পুলিশ জানিয়েছে, তিন অভিযুক্তকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোঙ্গাঁও থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। সেই সঙ্গে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তে আরও যাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

মহারাষ্ট্র স্টেট কাউন্সিল অফ এক্সামিনেশন(এমএসসিই) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রবিবার, ২৮ জুন রাজ্যের ১ হাজার ২৮টি পরীক্ষাকেন্দ্রে টেট পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভিওয়ান্ডিতে পুলিশের তদন্তে টেট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রমাণ সামনে আসায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে টেট পরীক্ষায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও প্রশ্নফাঁস ঠেকানো গেল না।

জানা গিয়েছে, পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে থানেতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে পুলিশ ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের অনেকটাই মিল পাওয়া যায়। এরপরেই প্রশাসনের তরফে আগামী রবিবারের পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়ার কথা জানানো হয়। তবে ফের কবে টেট পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এমএসসিই জানিয়েছে, গোটা ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার নতুন তারিখ ও পরবর্তী সমস্ত আপডেট কাউন্সিলের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।