পাক আকাশপথ ব্যবহারে নারাজ প্রধানমন্ত্রী

কিরঘিস্তানের বিসকেকে সাংহাই সম্মেলনে যােগ দিতে গেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Photo: IANS/MEA)

কিরঘিস্তানের বিসকেকে সাংহাই সম্মেলনে যােগ দিতে যাওয়ার জন্য পাকিস্তানের আকাশপথ খুলে দিতে পাক সরকারের কাছে আবেদন করেছিল ভারত সরকার। সেই মত শােনা গেছিল পাকিজানের আকাশপথ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্য খুলে দেবে সেখানকার সরকার। কিন্তু বুধবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক থেকে বলা হয়েছে পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করবেন না প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ পাকিস্তানের আকাশপথ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিমান যাবে না।

কিরঘিস্তানের বিসকেকে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বৃহস্পতিবার থেকে। সেখানে যােগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। কিরঘিস্তানে যেতে হলে পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার করতে হাবে প্রধানমন্ত্রীকে। কিন্তু বালাকোটে বায়ুসেনার এয়ারস্ট্রইক হওয়ার পর পাকিস্তান তাদের আকাশপথ ভারতের ব্যবহারের জন্য পুরােপুরি বন্ধ করে দেয়। সামরিক এবং অসামরিক সব বিমান পরিষেবায় নিষেধাজ্ঞা আরােপ করা হয়।

এসওসি সম্মেলনের যােগ দিতে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর জন্য আকাশপথ অংশ খুলে দিতে পাকিস্তান সরকারের কাছে আবেদন করে ভারত। তাতে সম্মতি দেয় ইমরান সরকার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহারে অসম্মতি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী রাজি না হওয়ায় কিরঘিস্তানের বিসকেকে যাওয়ার বিকল্প পথ খোঁজা হচ্ছে। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ‘ওমান, ইরান ও মধ্য এশিয়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিমান যাবে।


বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রভীশ কুমার জানিয়েছেন, বিসকেকে এসসিও সম্মেলনে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কোনও পার্শ্ব বৈঠক হবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদি বিসকেকে যাওয়ার সময় পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যহারের জন্য ভারতের বিদেশমন্ত্রক থেকে ইমরান সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। পাকিস্তান ভারতের সেই আবেদন মঞ্জুর করে। তবে পাকিস্তানের তরফ থেকে সরাসরি কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি এবিষয়ে।

এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ইমরান খানের সরকার নৈতিক কারণে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের আর্জি মঞ্জুর করেছে। পাক আকাশপথ দিয়ে যেতে পারবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিমান। সরকারের সিদ্ধান্ত উদ্ধৃতি করে ওই সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, সরকারি নিয়মকানুন সমাপ্ত হওয়ার পরই ভারত সরকারকে জানান হবে। সেই সঙ্গে প্রয়ােজনীয় নির্দেশাবলী দেওয়া হবে অসামরিক বিমান বাহিনীকেও। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যম পাক সরকারের উদ্ধৃতি উল্লেখ করে জানিয়েছে পাকিস্তান মনে করছে ভারতের দিক থেকে শান্তি আলোচনায় বসার ডাক পাবে।

বিসকেকে ২১ মে এসসিও’র বিদেশমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকে ভারতের তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহারে অনুমতি দিয়েছিল ইমরান সরকার।