মীনাক্ষী ভট্টাচার্য, দিল্লি
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভার্চুয়াল বৈঠকে দেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে এই বৈঠকে থাকছে না পশ্চিমবঙ্গ-সহ নির্বাচনী রাজ্যগুলি, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, যেখানে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন এবং আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ রয়েছে, সেই সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের এই বৈঠকে রাখা হয়নি। ফলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে পারছেন না। এই বৈঠকের প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে আসছে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি। ইরান, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলা সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রস্তুতি, জ্বালানি সরবরাহ, শক্তি নিরাপত্তা এবং বিদেশে থাকা ভারতীয়দের সুরক্ষা— এই বিষয়গুলিই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, এই বৈঠক অনেকটা কোভিড পর্বের ‘টিম ইন্ডিয়া’ বৈঠকের কথা মনে করাচ্ছে, যেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য একযোগে কাজ করার বার্তা দেওয়া হয়েছিল। এবারও একইভাবে রাজ্যগুলিকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তবে পশ্চিমবঙ্গকে এই বৈঠকের বাইরে রাখা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সব রাজ্যের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে কেন্দ্রের যুক্তি, নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর বক্তব্য, এই সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে এবং দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি শান্ত থাকার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তাও দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভাব্য কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লকডাউনের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেছিলেন। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশজুড়ে যথেষ্ট উদ্বেগ বাড়ছে। এই আবহেই কেন্দ্রের এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।