১০ মাসের আলিনের দেহদানে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী মোদী

মাত্র দশ মাসের ছোট্ট জীবন। পৃথিবীকে ঠিক করে চিনে ওঠার আগেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় থেমে যায় আলিন শেরিন আব্রাহামের পথচলা। তবু মৃত্যুর পরেও একাধিক মানুষের শরীরে স্পন্দিত হয়ে বেঁচে রইল সে। কেরলের সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গদানকারী হিসেবে আলিন আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর এই মানবিকতার কাহিনি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী  ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে।

রবিবার ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে মোদী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে, কেরালার ১০ মাস বয়সি আলিন শেরিন আব্রাহাম মারা গিয়েছে। সেই যন্ত্রণার মাঝে তার বাবা-মা শিশুটির অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের এই সিদ্ধান্ত অসংখ্য হৃদয় ছুঁয়েছে এবং অন্যদের আশা দিয়েছে। এই একক সিদ্ধান্ত তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাদের বিশাল ব্যক্তিত্বকে প্রকাশ করে।’

কেরলের পথনমথিত্তা জেলার মাল্লাপ্পল্লির বাসিন্দা অরুণ আব্রাহাম ও শেরিন অ্যান জনের একমাত্র সন্তান ছিল আলিন। ৫ ফেব্রুয়ারি মায়ের সঙ্গে সফরে বেরিয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয় সে। দুর্ঘটনার পরে আলিনকে প্রাথমিক ভাবে চাঙ্গানাসেরি এবং তিরুভাল্লার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে, তাকে কোচির অমৃতা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসকেরা ২৪ ঘণ্টা পর তাকে ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন।


সন্তানহারা শোকের মধ্যেও অসাধারণ মানসিক শক্তির পরিচয় দেন আলিনের বাবা-মা। কেরল রাজ্য অঙ্গ ও টিস্যু প্রতিস্থাপন সংস্থার মাধ্যমে তাঁরা অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন। আলিনের হৃদ্‌যন্ত্রের ভালভ পাঠানো হয় শ্রী চিত্রা ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে, লিভার কেআইএমএস হাসপাতালে এবং কিডনি তিরুবনন্তপুরমের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। কোচির অমৃতা হাসপাতালের চক্ষু ব্যাঙ্কে তার চোখ দান করা হয়েছে।