সুপ্রিম কোর্টে বিহার বিধানসভা ভোটকে চ্যালেঞ্জ করল পিকে-র জন সুরজ পার্টি

ভোটকুশলী ও রাজনীতিক প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন জন সুরজ পার্টি বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে নির্বাচনও দাবি করেছে এই দল।এই দলের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় কিছু অবৈধ ও আইন বহির্ভূত কাজ হয়েছে, যা ভোটের স্বাধীনতা নষ্ট করেছে। বিশেষ করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনায় বেশ বড় পরিমাণ অর্থ—প্রতি মহিলাকে ১০ হাজার টাকা সরাসরি হস্তান্তর করা হয়েছে, যা তখন আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকায় ভোটকে প্রভাবিত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জন সুরজ পার্টির সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের আর্থিক হস্তান্তর এবং অসঙ্গত সময়ে প্রকল্প চালু করা সংবিধানের বিভিন্ন ধারাকে লঙ্ঘন করেছে। এক্ষেত্রে সমতা, ব্যাক্তিগত স্বাধীনতা ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। দলের দাবি, সংবিধানের ১৪, ২১, ১১২, ২০২, ও ৩২৪ ধারাকে লঙ্ঘন করেছে। নির্বাচন কমিশনকে রিপ্রেজেন্টেশন অফ পিপল অ্যাক্ট-এর ১২৩ ধারা অনুযায়ী এসব বিধি লঙ্ঘনকে নির্বাচনী দুর্নীতি হিসেবে গণ্য করে নতুন করে নির্বাচনের নির্দেশ দিতে হবে। জন সুরজ পার্টি চায়, ২৫ থেকে ৩৫ লাখেরও বেশি মহিলাদের কাছে ১০ হাজার টাকা সরাসরি হস্তান্তরকে নির্বাচনী দুর্নীতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হোক। 

আরও বলা হয়েছে, স্ব-সহায়তা গোষ্ঠী জীবিকা বা জেইইভিআইকেএ-র প্রায় ১.৮ লক্ষ মহিলা কর্মীকে বুথে মোতায়েন করাও ভোটের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এটিও অনিয়ম হিসেবে দেখা উচিত বলে আবেদন করা হয়েছে।


দলের যুক্তি, এসব অনিয়ম ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করে এবং নির্বাচনকে ‘ফ্রি’ ও ‘ফেয়ার’ হওয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। ফলে পুরনো ফল বাতিল করে নতুন নির্বাচন হওয়া উচিত—এটাই আদালতের কাছে আবেদন।

এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সামনে শুনানি হবে।