সকালে যজ্ঞ, দুপুরে মাইক্রোবায়োলজি: পতঞ্জলির সামার ট্রেনিংয়ে সামিল ১১ রাজ্যের ১৩০ পড়ুয়া

Patanjali University Summer Training 2026

ভোরবেলা উঠে যজ্ঞ। তারপর যোগাভ্যাস। এরপর সোজা পরীক্ষাগারে, মাইক্রোস্কোপের সামনে।

হরিদ্বারের পতঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয়ে (Patanjali University) গত একমাস ধরে এটাই ছিল দিনের রুটিন। ভারতের ১১টি রাজ্য থেকে আসা ১৩০ জন ছাত্রছাত্রী এই অনন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে, যেখানে আধুনিক বিজ্ঞানের পাশাপাশি ভারতীয় জ্ঞানপরম্পরাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সেই গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ২০২৬-এর (Summer Training Programme 2026) সমাপনী অনুষ্ঠান হল পতঞ্জলি গবেষণা সংস্থার (Patanjali Research Institute) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে।


আচার্য বালকৃষ্ণ

কেন স্বতন্ত্র

প্রশিক্ষণে কী ছিল? তালিকাটা দেখলে চোখ আটকে যায়।

এক দিকে মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology), জৈবপ্রযুক্তি (Biotechnology), জৈবতথ্যবিজ্ঞান (Bioinformatics), আণবিক জীববিজ্ঞান (Molecular Biology) এবং ভেষজ উদ্ভিদ (Medicinal Plants) নিয়ে হাতে-কলমে গবেষণাগার প্রশিক্ষণ। বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীদের বক্তৃতা, পরীক্ষামূলক সেশন। অন্য দিকে প্রতিদিন ভোরে বৈদিক যজ্ঞ এবং যোগচর্চা।

এই দুটোকে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়ার এই প্রচেষ্টাই পতঞ্জলির এই কার্যক্রমকে আলাদা করে তোলে। কেউ বলবেন, এটাই আকর্ষণীয়। কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, বিজ্ঞান আর আচার কি একসঙ্গে চলে? তবে অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, অভিজ্ঞতাটা তাদের কাছে অত্যন্ত ‘বিরল’ এবং আত্মার কাছাকাছি মনে হয়েছে।

 

কুলপতির কথা

সমাপনী অনুষ্ঠানে পতঞ্জলি বিশ্ববিদ্যালয়ের কুলপতি আচার্য বালকৃষ্ণ (Acharya Balkrishna) জানান, ভারতের প্রাচীন ঋষি পরম্পরা এবং আধুনিক বিজ্ঞান একে অপরের পরিপূরক।

তাঁর বক্তব্য ছিল স্পষ্ট। গবেষণাগারে যে ছাত্র কাজ করছে, সে যদি পাশাপাশি ভারতীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের পাঠও নেয়, তাহলে তার ব্যক্তিত্ব আরও সুষম হয়। শুধু ডিগ্রিধারী নয়, চরিত্রবান এবং জাতি গড়ার কাজে নিবেদিত যুবসমাজ তৈরি করতে চান তিনি।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand) সরকারের মন্ত্রী ডা. ধন সিং রাওয়াত (Dhan Singh Rawat)। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র (National Education Policy 2020) মূল ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে এই কার্যক্রম। শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষাও দিচ্ছে পতঞ্জলি।

যজ্ঞোপচার হাতে পাঁচজন

সমাপনী অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল পুরস্কার প্রদান। গবেষণাগারের কাজ, অনুশাসন, যোগ ও যজ্ঞে অংশগ্রহণ এবং সামগ্রিক ব্যক্তিত্ব বিকাশের ভিত্তিতে পাঁচজন সেরা অংশগ্রহণকারীকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হল যজ্ঞোপচার।

বিজয়ীরা হলেন চন্দ্রিকা গোয়েল ও মেঘনা গুপ্ত (শারদা বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রেটার নয়ডা), বাদল পাঁচাল (আইটিএম বিশ্ববিদ্যালয়, ভোপাল), অর্বিতিকা ত্যাগী (এসডি কলেজ অব ফার্মেসি, উত্তরপ্রদেশ) এবং অনন্যা উনিয়াল (গ্রাফিক এরা ডিমড বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরাখণ্ড)।

উপহারে যজ্ঞোপচার

ছাত্রছাত্রীরা যা বলছেন

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, এই অভিজ্ঞতা তাদের কাছে ক্লাসরুম বা ল্যাবরেটরির গণ্ডি ছাড়িয়ে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। বৈজ্ঞানিক চিন্তার সঙ্গে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনের প্রেরণা, এই দুইয়ের সংযোগকেই তাঁরা ‘বিরল’ বলছেন।

সারা দেশের ১১টি রাজ্য থেকে আসা এই ছাত্রছাত্রীরা এবার নিজেদের প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাবেন। সঙ্গে নিয়ে যাবেন এমন একটা অভিজ্ঞতা, যা কোনও পাঠ্যবইয়ে লেখা নেই।