বারবার দাবি উঠেছিল। কিন্তু সেই দাবিতে সাড়া দিতে রাজি ছিল না কেন্দ্র। এবার সকলকে চমকে দিয়ে সংসদে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা-সহ সব বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বিরোধীরা বারবার দাবি করছিলেন, সংসদে উপস্থিত হয়ে অমিত শাহ যেন নয়াদিল্লিতে ছাত্রদের উপরে পেলেট গান অথবা বিহারে একে-৪৭ তাক করার মতো অভিযোগের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন। এবার কিরেন রিজিজু জানিয়ে দিলেন, সংসদে এই নিয়ে আলোচনা করতে রাজি অমিত শাহ। তবে তাঁর হুঁশিয়ারি, এই আলোচনার সময় যেন বিরোধীরা ‘হাঙ্গামা’ চালাতে পারবেন না।
এদিকে অমিত শাহ সংসদের বাদল অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকায় বিরোধী সাংসদদের বিক্ষোভ বাড়তে থাকে। তার জেরে দফায় দফায় মুলতুবি হয়ে যায় লোকসভা এবং রাজ্যসভার অধিবেশন। এই আবহে সোমবার কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়ে দিলেন, বিষয়টি নিয়ে সংসদে বক্তব্য পেশ করবেন অমিত শাহ। এদিন এই বিষয়ে কিরেন রিজিজু বলেন, ‘সরকারের প্রস্তাব অত্যন্ত স্পষ্ট যে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং এই সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং বিস্তারিত আলোচনা করতে প্রস্তুত। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলের কাছে আমার একমাত্র বক্তব্য, আলোচনা ও তার জবাব দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি প্রদানে বাধা সৃষ্টি বা বিশৃঙ্খলা করা উচিত নয়। বরং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকারের বক্তব্য বা জবাব অবশ্যই শোনা উচিত।’
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বক্তব্য রাখতে যে প্রস্তুত সেটা স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ শোনার জন্য বিরোধীদের অনুরোধ করেছেন সংসদ বিষয়কমন্ত্রী। আগামী ১৩ আগস্ট সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হবে। তার মধ্যে অমিত শাহ কবে বা কখন এই বিষয়ে বিবৃতি দেবেন সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তা দ্রুত জানিয়ে দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আগে এই বিষয়ে বলেছিলেন, ‘ওঁর নিষ্ক্রিয়তা প্রমাণ করে, শিক্ষার্থীদের উপরে হওয়া হামলার বিষয়টি তিনি সমর্থন করেন। তিনি কোনও তদন্তের নির্দেশ দেননি। এমনকী বিবৃতিও দেননি। তিনি সংসদে আসতে চাননি এবং আলোচনার দাবিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রোজ যে প্রস্তাবগুলি পেশ করা হয়েছে, সেগুলি সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।’
তাছাড়া যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ছাত্র সমাবেশে এবং ২০ জুলাই পড়়ুয়াদের সংসদ অভিযানে দিল্লি পুলিশ দমনপীড়ন চালিয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন। পুলিশের বিরুদ্ধে নিরস্ত্র প্রতিবাদীদের উপর লাঠি চালানো, কাঁদানে গ্যাস, পেলেট গান ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর দাবি, পুলিশের বলপ্রয়োগের সব খবরই অমিত শাহের কাছে ছিল। ছাত্রছাত্রীদের উপর লাঠিচার্জ হয়েছে তাঁর নির্দেশেই। যদিও এই দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ পেশ করতে পারেননি রাহুল।