২১০০’র বেশি ভারতীয় শিখ পুণ্যার্থীর ভিসার অনুমতি দিল পাকিস্তান

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

গুরু নানক জয়ন্তী বা গুরপুরব উদ্‌যাপনে অংশ নিতে আগামী নভেম্বরে পাকিস্তান যাচ্ছেন দুই হাজারেরও বেশি ভারতীয় শিখ তীর্থযাত্রী। বুধবার পাকিস্তান হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই ২১০০-র বেশি ভিসা প্রদান করা হয়েছে ভারতের শিখ তীর্থযাত্রীদের।

হাইকমিশনের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ‘পাকিস্তানে আগামী ৪ থেকে ১৩ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বাবাসাহেব গুরু নানক দেবজীর জন্মোৎসব উপলক্ষে ভারতীয় শিখ তীর্থযাত্রীদের জন্য ২১০০-র বেশি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত বছর দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, শ্রী করতারপুর সাহিব করিডর সংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হবে। ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর স্বাক্ষরিত এই চুক্তি অনুসারে, ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা করতারপুর সাহিব করিডর হয়ে পাকিস্তানের নারোয়াল জেলার গুরুদ্বার দরবার সাহিবে যাতায়াতের অনুমতি পান।


ভারতের বিদেশ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করায় করিডরের পরিষেবা অবিচ্ছিন্নভাবে চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। একইসঙ্গে ভারত বারবার অনুরোধ জানিয়েছে, পাকিস্তান যেন তীর্থযাত্রীদের থেকে আর্থিক ফি না নেয়। বর্তমানে প্রতি যাত্রায় পর্যটক পিছু ২০ মার্কিন ডলার ‘সার্ভিস চার্জ’ নেওয়া হয়, যা দীর্ঘদিন ধরেই বাতিলের দাবি তুলছেন শিখ তীর্থযাত্রীরা।

২০১৯ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করতারপুর করিডরের উদ্বোধন করেছিলেন। সেই প্রথম যাত্রাদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর এই পবিত্র স্থান সীমান্তের ওপারে চলে গিয়েছিল এবং বহু বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৯৯ সালে তা সংস্কারের পর পুনরায় তীর্থযাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

তবে এই বছর এপ্রিল মাসে পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে করতারপুর করিডরের পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। পরে গুরুদ্বার দরবার সাহিবে জলবন্যার ফলে গর্ভগৃহ পর্যন্ত জল ঢুকে পড়ায় পাকিস্তান প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করে।

এদিকে, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আসন্ন গুরু নানক জয়ন্তী উপলক্ষে ভারতীয় শিখ তীর্থযাত্রীদের সফরকে ঘিরে পাকিস্তানের কিছু গোয়েন্দা সংস্থা নাকি ‘বিরোধী প্রচার’-এর পরিকল্পনা করছিল। তবে লাহোরে আয়োজিত এক বৈঠকে পাকিস্তান শিখ গুরুদ্বার পরিচালন কমিটি (পিএসজিপিসি) ও ইভাকুয়ি ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড (ইটিপিবি) সেই প্রস্তাবের কড়া বিরোধিতা করেছে।

ইটিপিবির এক অতিরিক্ত সচিব সতর্ক করে বলেছেন, ‘যদি তীর্থযাত্রাকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হয়, তাহলে ভারত এই সফর স্থগিত করতে পারে, যা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত পর্ষদগুলি বড় ধাক্কা খাবে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৮ মে করতারপুর করিডর বন্ধ হওয়ার পর থেকে ইটিপিবি মাসে প্রায় ৭ কোটি পাকিস্তানি মুদ্রার লোকসানের মুখে পড়েছে। তাছাড়া দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক তীর্থযাত্রা বাতিল হওয়ায় সেই ক্ষতি আরও বেড়েছে।

তবুও দুই দেশের মধ্যে ধর্মীয় যোগাযোগ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা বহন করছে গুরু নানক জয়ন্তীর এই যাত্রা। ভারতের শিখ তীর্থযাত্রীদের আশা, এই সফর শুধু আধ্যাত্মিক মিলনই নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও সৌহার্দ্যের নতুন সেতু গড়ে তুলবে।