পশ্চিমবঙ্গে রেলের জমি দখলমুক্ত করার অভিযান ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই সামনে এল উদ্বেগজনক ছবি। তথ্যের অধিকার বা আরটিআই আইনে রেল বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের শেষে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশজুড়ে ভারতীয় রেলের ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর জমি বেআইনিভাবে দখল হয়ে রয়েছে। এক হেক্টর প্রায় আড়াই একরের সমান।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৫ বছরে রেলের জমি জবরদখলের পরিমাণ প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে বেদখল জমির পরিমাণ ছিল ৮১০.৩১ হেক্টর। ২০২১-২২ সালে তা কিছুটা কমে ৭৮২.৮১ হেক্টর হয়। যদিও পরের বছর ফের বাড়তে শুরু করে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এক বছরেই প্রায় ২৬৮ হেক্টর নতুন জমি দখল হয়ে যাওয়ায় মোট বেদখল জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১,০৭৮.৫৫ হেক্টরে। ২০২৪-২৫ সালে তা সামান্য কমে ১,০৬৮.৫৪ হেক্টর হয়েছে।
সংসদে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে রেল মাত্র ৯৮.০২ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করতে পেরেছে। অর্থাৎ, যে গতিতে নতুন করে জমি দখল হচ্ছে, তার তুলনায় উদ্ধার অভিযান অনেকটাই ধীর। বর্তমানে ভারতীয় রেলের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ৪.৯৯ লক্ষ হেক্টর। সেই হিসাবে বেদখল জমির পরিমাণ মোট জমির মাত্র ০.২১ শতাংশ হলেও বাস্তবে এর বিস্তার বিশাল। এই জমিতে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের মতো প্রায় ৪২টি স্টেডিয়াম বা প্রায় ১,৪৯৬টি ফিফা মানের ফুটবল মাঠ তৈরি করা সম্ভব।
রেল মন্ত্রকের দাবি, উদ্ধার হওয়া জমিতে নতুন রেললাইন, মালবাহী ও যাত্রী টার্মিনাল, ওয়ার্কশপ-সহ বিভিন্ন রেল প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। আর যে জমি আপাতত প্রয়োজন নেই, তা রেল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা আরএলডিএ-র মাধ্যমে বাণিজ্যিক উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা হবে। আরটিআইতে গত ২৫ বছরের তথ্য চাওয়া হলেও রেল বোর্ড জানিয়েছে, তারা শুধু শেষ ৫ বছরের তথ্য সংরক্ষণ করে। পাশাপাশি কোন রাজ্যে সবচেয়ে বেশি রেলের জমি বেদখল হয়েছে, তার কোনও কেন্দ্রীয় তথ্য ভাণ্ডারও নেই। সেই তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট জোনাল রেলের কাছেই আবেদন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন রেললাইন, মালবাহী করিডর, স্টেশনের আধুনিকীকরণ ও অন্যান্য সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য বিপুল জমির প্রয়োজন। সেই পরিস্থিতিতে রেলের জমিতে ক্রমবর্ধমান জবরদখল ভবিষ্যতের উন্নয়ন পরিকল্পনার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।