দেশের স্টার্টআপ পরিকাঠামোয় নারীর অংশগ্রহণ ক্রমশ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য প্রসার দপ্তরের স্বীকৃত মোট ২ লক্ষ ১২ হাজার স্টার্টআপ সংস্থার মধ্যে ১ লক্ষ ২ হাজারেরও বেশি সংস্থায় অন্তত এক জন মহিলা পরিচালক বা অংশীদার রয়েছেন। লোকসভায় এক লিখিত উত্তরে বাণিজ্য ও শিল্প দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ জানিয়েছেন, কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী স্বীকৃত স্টার্টআপগুলির মধ্যে ৬,৭৮৯টি সংস্থা ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে ২,৯৫০টি সংস্থায় অন্তত এক জন মহিলা পরিচালক বা অংশীদার ছিলেন।
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকার সমর্থিত বিকল্প বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে নির্বাচিত স্টার্টআপ সংস্থাগুলিতে প্রায় ২৫,৮৫৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সাল থেকে নারী পরিচালিত স্টার্টআপগুলিতে প্রায় ২,৯৯৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।
সরকারের ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় ২০২১ সাল থেকে ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া বীজ তহবিল প্রকল্প’-এর মাধ্যমে নির্বাচিত সংস্থাগুলির জন্য প্রায় ৫৯২ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৯৪ কোটি টাকা নারী পরিচালিত উদ্যোগগুলির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় সরকার ‘স্টার্টআপ ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি চালু করে। এর লক্ষ্য ছিল দেশে উদ্ভাবন ও নতুন উদ্যোগের জন্য শক্তিশালী পরিবেশ তৈরি করা এবং বিনিয়োগ বাড়ানো।
এই উদ্যোগের অধীনে সরকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টার্টআপ তহবিল প্রকল্প, বীজ তহবিল প্রকল্প এবং স্টার্টআপ ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্প। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৯২৫ কোটি টাকার ঋণ গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা নারী পরিচালিত স্টার্টআপ সংস্থাগুলিকে দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের প্রযুক্তি স্টার্টআপ সংস্থাগুলি মোট প্রায় ৯.১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন ভারতের স্টার্টআপ জগৎ ধীরে ধীরে সংখ্যার ভিত্তিতে বৃদ্ধির পরিবর্তে কার্যকর ব্যবসায়িক সক্ষমতার দিকে এগোচ্ছে।