‘আমাদের মেয়ে প্রধানমন্ত্রী হবে’ প্রিয়াঙ্কাকে আশীর্বাদ সাধুবাবার

দু’দিনের আসাম সফরে গিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। বৃহস্পতিবার সকালে গুয়াহাটিতে পৌঁছন তিনি। গুয়াহাটির লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদোলই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি যান শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরে। মন্দিরে পুজো দেন কংগ্রেস সাংসদ। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচির থেকেও বেশি চর্চা হয়েছে মন্দির চত্বরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা নিয়ে।

মন্দিরে এক নাগা সাধুর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের সময় তিনি প্রিয়ঙ্কার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেন এবং বলেন, ‘হামারা বেটি প্রধানমন্ত্রী বনেগা।‘ এই দৃশ্যের ভিডিও দ্রুত সমাজমাধ্যমে  ছড়িয়ে পড়ে। মন্তব্য শুনে মৃদু হেসে সরে যান প্রিয়াঙ্কা। কংগ্রেস শিবির অবশ্য একে নিছক আশীর্বাদ বলেই ব্যাখ্যা করেছে।

মন্দির দর্শনের পর প্রিয়ঙ্কা যান গুয়াহাটির রাজীব ভবনে, যা অসম প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যালয়। সেখানে ব্লক, জেলা ও প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। মহিলা কংগ্রেস, এনএসইউআই-সহ বিভিন্ন শাখা সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হওয়ার কথা।


দলীয় সূত্রে খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় তিনি নিজে নজর রাখছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মূল্যায়ন, সাংগঠনিক শক্তি যাচাই এবং অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সঙ্গে সমন্বয়— এসবই বৈঠকের মূল আলোচ্য।অসম কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচনী প্রচার জোরদার হলে প্রিয়ঙ্কার সফরও বাড়বে। রাজনৈতিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কামাখ্যার আশীর্বাদের সেই মুহূর্ত সফরকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

অসমের ভারপ্রাপ্ত এআইসিসি নেতা জিতেন্দ্র সিংহ জানিয়েছেন, এ বার প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, এই প্রথম ব্লক কংগ্রেস কমিটি, জেলা কংগ্রেস কমিটি, গ্রাম কংগ্রেস কমিটি, যুব কংগ্রেস, মহিলা কংগ্রেস এবং দলের জনজাতি ও আদিবাসী শাখার প্রতিনিধিদের মতো তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন স্ক্রিনিং কমিটির পর্যবেক্ষকরা।

এ ছাড়া দলের সাংসদ, বিধায়ক, পরিচালন কমিটি এবং নির্বাচন কমিটির সদস্যদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক হবে। প্রার্থী নির্বাচন, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং স্থানীয় স্তরের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। দলীয় নেতৃত্বের মতে, তৃণমূল স্তর থেকে মতামত সংগ্রহ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করার এই প্রক্রিয়া সংগঠনকে আরও সুসংহত করবে এবং আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেসের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।