সোমবার থেকে দিল্লিতে খুলছে, স্কুল আগামী মার্চে রাজ্যে মাধ্যমিক, এপ্রিলে উচ্চমাধ্যমিক-জয়েন্ট, বিজ্ঞপ্তি কালীপুজোর আগেই

করোনা নিয়ে আতঙ্ক কিছুটা হলেও কমেছে। সতর্কতা মেনে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য সচেতনতার প্রচার চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলছে। পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিকতার দিকে এগোচ্ছে। এই অবস্থায় আগামী বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিকে পরীক্ষা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে স্কুল শিক্ষা দফতর।

সূত্রের খবর, আগামী বছর মার্চ মাসে মাধ্যমিক এবং এপ্রিল মাসে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকের সঙ্গে ওই মাসেই রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা হওয়া বাঞ্ছনীয়। এই বিষয়ে মাধ্যমিকে শিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চমাধ্যমিকে শিক্ষা সংসদ একটা সম্ভাব্য সূচি তৈরি করে নবান্নে পাঠিয়েছে। কালীপুজোর আগেই তাতে অনুমোদন দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হবে জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত দিল্লি বোর্ড নভেম্বরে তাদের পরীক্ষা নেওয়া বাতিলের পথেই হাঁটছে। সেই অবস্থানে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার কোভিডের প্রায় দু’বছর পরে নির্দিষ্ট সময় পরীক্ষা নেওয়ার পথে হাঁটতে চলেছে। আগামি ১ নভেম্বর থেকে রাজধানী দিল্লির সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্কুল খোলা হবে।


ডিডিএমএ’র বৈঠকে আজ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণের কারণে গত আঠারো মাস বন্ধ থাকার পর আগামি মাসের প্রথম দিনেই রাজধানী শহরের সব স্কুলেই প্রথম শ্রেণী থেকে পুনরায় সব শ্রেণীতেই ক্লাস শুরু হবে।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি থেকে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পঠন-পাঠন শুরু করা হয়েছে তারপর কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে ৯ এপ্রিল থেকে ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারপর ১ সেপ্টেম্বর থেকে পরিস্থিতি মোটের ওপর স্বাভাবিক হওয়ার পর ফের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পঠন-পাঠন শুরু করা হয়।

উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ শিসোদিয়া বলেন, স্কুল খোলা হচ্ছে ঠিকই তবে কিছু শর্ত থাকছে। অভিভাবকরা জোর করে তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারবেন না। স্কুল কর্তৃপক্ষদের স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, টিচিং ও নন টিচিং স্টাফদের পুরো টিকা নেওয়া হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ডিডিএমএ মিটিংয়ে জানানো হয়েছে সব স্কুলের ৯৮-৯৯ শতাংশ কর্মীর প্রথম ডোজ টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে। তারা দ্বিতীয় ডোজ নেবেন’। উপ মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া টুইট করে এ কথা জানিয়েছেন। তবে কাউকে ক্লাসে আসার জন্য জোর করা হবে না। একই সঙ্গে অনলাইন ও স্কুলে বসে ক্লাস করা যাবে। তবে কোনও শ্রেণিকক্ষেই মোট পড়ুয়া সংখ্যার অর্ধেকের বেশি বসানো যাবে না।

গত বছর মার্চ মাস থেকে করোনার প্রকোপে দিল্লিতে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সমস্ত স্কুল। তার পর থেকে বিদ্যালয়ের দরজা বন্ধই ছিল। সম্প্রতি স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্য।

এ বার সেই পথেই গেল অরবিন্দ কেজরী ওয়ালের আম আদমি পার্টির সরকারও। এতদিন পর্যন্ত দিল্লির স্কুলগুলোয় কেবলমাত্র নবম শ্রেণি থেকেদ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস চলছিল। সোমবার থেকে পুরোপুরি খুলে যাবে স্কুল। দিল্লি সরকার জানিয়েছে, স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের দুটি টিকা নেওয়া বাধ্যতামূলক।

উপ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, করোনার কারণে কাউকে স্কুলে আসার জন্য জোর করা হবে না। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ও অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হবে। মোট পড়ুয়ার অর্ধেক বসানো যাবে।