রবিবার ভোরে একটি চারতলা বহুতলে ভয়াবহ আগুনে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলের দৃশ্য অত্যন্ত হৃদয়বিদারক—দেওয়াল কালো হয়ে গিয়েছে, সিঁড়ির অংশ ভেঙে পড়েছে, আর বহু জায়গা থেকে তখনও ধোঁয়া বেরোচ্ছিল।
প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর প্রায় ৪টার সময় দ্বিতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা উপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের দাপটে বহু বাসিন্দা নিজেদের ফ্ল্যাটেই আটকে পড়েন। কয়েক জন প্রাণ বাঁচাতে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ছাদের দরজা তালাবদ্ধ থাকায় তাঁরা ফিরে আসতে বাধ্য হন। ততক্ষণে আগুন চতুর্থ তলাতেও পৌঁছে যায়, ফলে তাঁদের আর বেরোনোর কোনও পথ খোলা ছিল না।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন অরবিন্দ জৈন, তাঁর স্ত্রী অনিতা, তাঁদের ছেলে নিশান্ত, পুত্রবধূ আঁচল এবং তাঁদের দেড় বছরের শিশু সন্তান আকাশ। এছাড়া দ্বিতীয় তলা থেকে শিখা জৈনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চতুর্থ তলা থেকে উদ্ধার হয়েছে নিতিন জৈন, তাঁর স্ত্রী শৈলী এবং তাঁদের পুত্র সাম্যকের দেহ।
দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২০ জন বাসিন্দাকে উদ্ধার করে। মই ব্যবহার করে ব্যালকনি থেকে তাঁদের নামানো হয়। ভবনে মোট আটটি ফ্ল্যাট ছিল। জানা গিয়েছে, পিছনের দিকের ফ্ল্যাটগুলির বাসিন্দারা বেরোতে পারেননি, কিন্তু সামনের দিকের বাসিন্দাদের বেশিরভাগকেই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো সতর্ক করা গেলে হয়তো প্রাণহানি এড়ানো যেত। অনেকেই তখন গভীর ঘুমে ছিলেন, ফলে আগুন টের পাননি। দমকলকর্মীরা প্রতিটি ঘরে তল্লাশি চালিয়ে দেখেন, উদ্ধার হওয়া দেহগুলির অনেকই এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।