তিন দেশের সফরে মোদী, লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি

Photo: ANI

তিন দেশের সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিন দেশের সফরে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এই নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেই বিবৃতিতে মোদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুতের জন্য তিন দেশের সফরের কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আগামী কয়েকদিন আমি ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেব। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানো বৈঠকগুলির মূল উদ্দেশ্য। এর ফলে দেশের তরুণদের জন্য আরও সুযোগও বাড়বে।’ এই সফরের পরে অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও জোরদার করবে বলে জানিয়েছেন মোদী।

প্রধানমন্ত্রী ৬-৮ জুলাই ইন্দোনেশিয়ায়, ৮-১০ জুলাই অস্ট্রেলিয়ায় ও ১০-১১ জুলাই নিউজিল্যান্ড সফরে করবেন। এই সফরে তিনি ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে দেখা করবেন। মোদী বলেছেন, ‘২০১৮ সালে আমার প্রথম ইন্দোনেশিয়া সফরের সময়ে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ স্তরে নিয়ে গিয়েছিল। তারপরে এটাই আমার প্রথম সফর। আমার এই সফর আমাদের বহুমুখী অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক আরও গভীর করবে।’


মোদী জানিয়েছেন, তিনি ইন্দোনেশিয়া সফরে সেখানরকার রাষ্ট্রপতি প্রবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে প্রাম্বানান মন্দির পরিদর্শন করবেন। এর পাশাপাশি সেখানকার প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও কথা বলবেন। ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে মোদী অস্ট্রেলিয়ায় যাবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী দ্য অনারেবল অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, শিক্ষা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। মেলবোর্নে আমি প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে আলাপের সুযোগ পাব।’ তবে এর পাশাপাশি আরও অনেক ক্ষেত্রে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে আরও মজবুত হবে, তা মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদী মেলবোর্ন থেকে নিউজিল্যান্ড সফরে যাবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৫ সালে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের ভারত সফরের পর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গতি এসেছে। এবারের সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। এই সফরে আমি প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, সেই বিষয়ে আলোচনা করব। ভারত ও নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রবাসী ভারতীয়দের অনেক অবদান রয়েছে। এই সফরে আমি তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।’