ভারতীয় রেল আগামী আগস্ট মাস থেকে যাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন ‘প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম’ বা পিআরএস চালু করতে চলেছে। তার ফলে ১৯৮৬ সাল থেকে ব্যবহৃত পুরনো টিকিট বুকিং ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। রেল মন্ত্রকের দাবি, নতুন ব্যবস্থায় টিকিট কাটা আরও দ্রুত, সহজ এবং নির্ভরযোগ্য হবে। এই ঘটনা ঘটলে ১৯৮৬ সাল থেকে রেলের টিকিট কাটার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসা পুরনো প্ল্যাটফর্মটি এবার চিরতরে বিদায় নেবে।
এদিকে রেল মন্ত্রকের দাবি, এই নতুন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সিস্টেম চালুর মূল উদ্দেশ্য, ট্রেন টিকিট বুকিংয়ের প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও সহজ করা, সিস্টেম ক্যাপাসিটি বহুগুণ বৃদ্ধি করা এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের টিকিট কাটার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক উন্নত ও স্বস্তি দেওয়া। সম্প্রতি রেল ভবনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই পরিবর্তন চলাকালীন সাধারণ যাত্রীরা যাতে কোনও ধরনের বুকিং বিভ্রাট বা হয়রানির মুখে না পড়েন সেটা নিশ্চিত করতে আধিকারিকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই পর্যালোচনা বৈঠকে রেল প্রতিমন্ত্রী ভি সোমান্না এবং রবনীত সিং বিটুও উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ইদানিংকালে রেলের প্রায় ৮৮ শতাংশ টিকিটই অনলাইনে বুক করা হয়। এখন মানুষজন প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছেন। এই চাপ সামলাতেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন ব্যবস্থা আনা হচ্ছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, যাত্রীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ‘রেলওয়ান’ অ্যাপও দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে। এক বছরের মধ্যে অ্যাপটি ৩.৫ কোটির বেশি ডাউনলোড হয়েছে। প্রত্যেকদিন প্রায় ৯ লক্ষেরও বেশি টিকিট এই অ্যাপের মাধ্যমে বুক করা হচ্ছে। তার মধ্যে প্রায় ৭.২ লক্ষ সাধারণ টিকিট এবং ২.০৯ লক্ষ সংরক্ষিত টিকিট রয়েছে।
তাছাড়া এই যুগের আধুনিক প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে এই নতুন বুকিং সিস্টেমকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হয়েছে। তার ফলে প্রত্যেকদিন অনলাইনে টিকিট কাটার যে বিপুল ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা তৈরি হচ্ছে সেটা অনায়াসে এবং মসৃণভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এআই-বেসড ওয়েটলিস্ট প্রেডিকশন। তার সাহায্যে যাত্রীরা আগে থেকেই জানতে পারবেন টিকিট কনফার্ম হওয়ার সম্ভাবনা কতটা। রেলের দাবি, এই প্রযুক্তির নির্ভুলতা এখন প্রায় ৯৪ শতাংশ। ফলে ট্রেনে যাত্রার পরিকল্পনা করা আরও সহজ হবে।