আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন বিপুল সম্পত্তির অভিযোগে গ্রেফতার ওড়িশার এক সরকারি আধিকারিক। শনিবার সুন্দরগড়ের মৃত্তিকা সংরক্ষণ বিভাগের উপ-অধিকর্তা তথা জলবিভাজিকা প্রকল্পের অধিকর্তা প্রসন্ন কুমার পাত্রকে গ্রেফতার করেছে ওড়িশা ভিজিল্যান্স। তাঁর পরিচিত আয়ের উৎসের তুলনায় ২০৪ শতাংশ বেশি সম্পত্তির হদিস মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
ভিজিল্যান্স সূত্রে খবর, প্রসন্ন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে তল্লাশি চালিয়ে চারটি বহুতল বাড়ি, একটি ফ্ল্যাট, সাতটি দামি জমি এবং ব্যাঙ্কে ১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকারও বেশি আমানতের সন্ধান মিলেছে। সম্পত্তির উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে সুন্দরগড়ের ভিজিল্যান্স আদালতের বিশেষ বিচারকের এজলাসে পেশ করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ভুবনেশ্বরের ফেজ-২ এলাকার মঞ্চনাথ ভিলায় প্রায় ২,৪০০ বর্গফুট আয়তনের তিনটি দোতলা বাড়ি রয়েছে প্রসন্নের পরিবারে। এ ছাড়া বালিয়ান্তায় প্রায় ৩,০০০ বর্গফুটের আরও একটি দোতলা আবাসনের হদিস মিলেছে। নয়াপল্লিতে প্রায় ১,১৫০ বর্গফুটের একটি তিন শয়নকক্ষের ফ্ল্যাটও রয়েছে বলে জানিয়েছে ভিজিল্যান্স।
এ ছাড়াও ভুবনেশ্বরে আরও একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য এক আবাসন ব্যবসায়ীকে অগ্রিম ২৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ব্যাঙ্কে জমা থাকা অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ৪৬ লক্ষ ১৬ হাজার ৯১৬ টাকা। পাশাপাশি, প্রায় ২১২ গ্রাম সোনার গয়না, নগদ ১ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা, তিনটি দু’চাকার গাড়ি এবং ৭ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা মূল্যের গৃহস্থালির সামগ্রীর হদিস মিলেছে।
তল্লাশির পর উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির তালিকা তৈরি এবং প্রসন্নের আয়, ব্যয় ও সম্পত্তির হিসাব খতিয়ে দেখে ভিজিল্যান্সের অনুমান, তাঁর আয়ের পরিচিত উৎসের তুলনায় অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পত্তির পরিমাণ ২০৪ শতাংশ। এই ঘটনায় ২০১৮ সালের সংশোধনী-সহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের প্রাসঙ্গিক ধারায় প্রসন্ন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে রাউরকেলা ভিজিল্যান্স থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।