আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বিজেপি। মোট ১৪৪ জন প্রার্থীর তালিকায় যেমন পেশাগত বৈচিত্র্যের ছাপ রয়েছে, তেমনই কৌশলগত দিক থেকেও একাধিক চমক রেখেছে পদ্ম শিবির। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে শিক্ষক, চিকিৎসক, সমাজসেবী, আইনজীবী, সাংবাদিক, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব— নানা পেশার প্রতিনিধিত্ব দেখা গিয়েছে এই তালিকায়।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে গত সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় এই তালিকার বিষয়টি কার্যত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। সোমবার সেই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হয়।
সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চমক হল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে দুটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা। নিজের গড় নন্দীগ্রামের পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে। বর্তমানে ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে তিনি যদি আবার এই কেন্দ্র থেকেই ভোটে দাঁড়ান, তা হলে রাজ্যের রাজনীতিতে ফের মুখোমুখি লড়াই দেখা যেতে পারে শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে।
প্রার্থী তালিকায় আর একটি উল্লেখযোগ্য নাম নৈহাটি কেন্দ্রের প্রার্থী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্য। সম্প্রতি তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
ঘোষিত তালিকায় অভিজ্ঞ নেতাদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। মোট ১৪৪ জনের মধ্যে ৪১ জন বর্তমান বিধায়ক এবং ৩ জন প্রাক্তন বিধায়ক রয়েছেন। এ ছাড়া ২ জন প্রাক্তন সাংসদ— স্বপন দাশগুপ্ত ও দিলীপ ঘোষ— এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
পেশাগত বৈচিত্র্যের দিক থেকেও তালিকাটি নজর কেড়েছে। ১৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫৭ জন বিভিন্ন পেশাগত ও সামাজিক ক্ষেত্র থেকে উঠে এসেছেন। এর মধ্যে শিক্ষক রয়েছেন ২৩ জন। উল্লেখযোগ্য নামের মধ্যে আছেন ডাঃ শঙ্কর ঘোষ, শিখা চট্টোপাধ্যায় এবং নির্মল কুমার ধারা। সমাজসেবী হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন ৮ জন, আইনজীবী ৬ জন এবং চিকিৎসক ৫ জন।
এ ছাড়া সাংবাদিকতা জগত থেকেও ৩ জনকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত ও সন্তু পান। চলচ্চিত্র জগতের প্রতিনিধিত্ব করছেন রুদ্রনীল ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পাল। পাশাপাশি আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রের ৩ জন নেতাকেও প্রার্থী করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন ৩ জন।
তালিকায় আরও কয়েকজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। সামাজিক আন্দোলনের নেতা রাজেশ মাহাতো, ক্রিকেটার অশোক দিন্দা, লোকসঙ্গীত শিল্পী অসীম কুমার সরকার এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক আধিকারিক সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
লিঙ্গ ও বয়সের পরিসংখ্যানের দিক থেকেও তালিকায় একটি নির্দিষ্ট ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। মোট ১৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১ জন মহিলা। আবার তরুণ নেতৃত্বকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে— ৪০ বছরের নিচে রয়েছেন ৩৬ জন প্রার্থী। বয়সের হিসেবে ৪১ থেকে ৫৫ বছর বয়সী প্রার্থী রয়েছেন ৭২ জন, ৫৬ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৩২ জন এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সী রয়েছেন মাত্র ৪ জন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী তালিকার মাধ্যমে বিজেপি একদিকে যেমন অভিজ্ঞ নেতাদের ওপর ভরসা রেখেছে, তেমনই বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিত্ব এনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও মজবুত করার কৌশল নিয়েছে।