একের পর এক পরীক্ষায় ভুল, প্রশ্নপত্র নিয়ে বিতর্ক এবং পরীক্ষার্থীদের ক্ষোভ — সব মিলিয়ে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার সংস্থাটিকে ঢেলে সাজানোর পথে হাঁটল কেন্দ্র। পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরাতে এনটিএ(NTA)-র ৫০ জনেরও বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদে পেশাদার নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সোমবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী (Pralhad Joshi) উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, এনটিএ(NTA)-র সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধান-সহ শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সাম্প্রতিক পরীক্ষাগুলিতে কী ধরনের সমস্যা হয়েছে এবং তা রোধ করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে নির্দিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হবে। কোথায় গাফিলতি হয়েছে তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন মন্ত্রী।
এনটিএ(NTA)-তে নতুন করে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পেশাদার পদ তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে চিফ টেকনোলজি অফিসার, চিফ ফিন্যান্স অফিসার, চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার, টেস্ট সিকিউরিটির জেনারেল ম্যানেজার এবং গবেষণা, উন্নয়ন ও সাইকোমেট্রিক্সের জেনারেল ম্যানেজারের মতো পদ। এই পদগুলিতে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা, প্রশ্নপত্র তৈরি ও সাইকোমেট্রিক্সের মতো বিশেষ ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদেরও আনা হবে।
শুধু কর্মী বদল নয়, প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষার ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনটিএ(NTA)-র গোপনীয় কাজকর্মের পুরো পরিকাঠামো নতুন করে সাজানো হবে। প্রশ্নপত্র তৈরির নির্দিষ্ট ঘর, ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন ‘এয়ার-গ্যাপড’ কম্পিউটার ব্যবস্থা এবং মোবাইল বা অন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস জমা রাখার নিয়ম আরও কড়াভাবে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে সাম্প্রতিক ইউজিসি নেট (UGC-NET) জুন ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র বিতর্ক। ইংরেজি, বাণিজ্য ও সমাজবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে একাধিক তথ্য, মুদ্রণ ও অনুবাদ সংক্রান্ত ভুল ধরা পড়ে। কোথাও নামের বানান ভুল, কোথাও বইয়ের নামের বিকৃতি, ব্যাকরণ ও যতিচিহ্নের ভুল, আবার কোথাও অপ্রচলিত পরিভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এমনকি আগের পরীক্ষায় আসা বেশ কিছু প্রশ্নও ফের প্রশ্নপত্রে চলে আসে।
এর পরেই ওই তিন বিষয়ের পরীক্ষা ফের নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনটিএ (NTA)। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ইংরেজি ও বাণিজ্য এবং ১০ সেপ্টেম্বর সমাজবিজ্ঞানের পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার্থীদের নতুন করে কোনও ফি দিতে হবে না। এই তিন বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের ফল বা বিষয়ভিত্তিক আসন বরাদ্দেও কাটছাঁট করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। বাকি ৮৪টি বিষয়ের ফল প্রকাশের কাজেও এই পুনঃপরীক্ষার প্রভাব পড়বে না।
২২ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৮৭টি বিষয়ে ইউজিসি নেট (UGC-NET) পরীক্ষা নিয়েছিল এনটিএ (NTA)। এই পরীক্ষার মাধ্যমে জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ, সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ্যতা এবং পিএইচডি-তে ভর্তির যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।
এ বার শুধু ইউজিসি নেট (UGC-NET) নয়, এনটিএ(NTA)-র সমস্ত পরীক্ষার ব্যবস্থাই খতিয়ে দেখা হবে। পুরো পরীক্ষা প্রক্রিয়ার সার্বিক অডিট করে কোথায় কী সমস্যা রয়েছে এবং তা ঠিক করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার রিপোর্ট শিক্ষামন্ত্রককে (Pralhad Joshi) দিতে হবে। পরীক্ষার্থীদের আস্থা ফেরানো এবং জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় নির্ভুল প্রশ্নপত্র ও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।