প্রয়াত পদ্মবিভূষণপ্রাপ্ত জ্যোর্তিপদার্থবিদ জয়ন্ত নারলিকর

প্রয়াত পদ্মবিভূষণপ্রাপ্ত বিশিষ্ট জ্যোতির্পদার্থবিদ জয়ন্ত বিষ্ণু নারলিকর। মঙ্গলবার পুনেতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। পরিবারের তরফে তাঁর মৃত্যুসংবাদ জানানো হয়েছে। সম্প্রতি অস্ত্রোপচার হয় নারলিকরের। এছাড়াও বার্ধক্যজনিত একাধিক শারীরিক অসুস্থতা ছিল। অস্ত্রোপচারের পর মোটামুটি সুস্থই ছিলেন তিনি। কিন্তু আচমকাই এদিন ঘুমের মধ্যে মৃত্যু হয় বিজ্ঞানীর। কসমোলজি অর্থাৎ মহাজাগতিক রহস্যের গবেষণায় অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন বিজ্ঞানী নারলিকর। তাঁর পরিবার সূত্রে খবর, আজ প্রয়াত জ্যোতির্পদার্থবিদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী নারলিকরের জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৯ জুলাই মহারাষ্ট্রে। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকের পড়া সম্পূর্ণ করে কেমব্রিজ যান তিনি। সেখানে ম্যাথামেটিক্যাল ট্রাইপোস-এ র‌্যাঙ্গলার এবং টাইসন মেডেল অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে তিনি টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে যোগদান করেন। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সেখানে কাজ করেছিলেন তিনি।

১৯৮৮ সালে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞান চর্চার জন্য ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স গড়ে তোলেন নারলিকর। আইইউসিএএ-র প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালকও ছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে অবসরের আগে পর্যন্ত সেই পদেই কাজ করেছেন তিনি। ২০১২ সালে, থার্ড ওয়ার্ল্ড অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস ডঃ নারলিকরকে বিজ্ঞানে উৎকর্ষতা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য পুরস্কার প্রদান করে।


একাধিক পুরস্কার পেয়েছিলেন প্রখ্যাত এই জ্যোতির্পদার্থবিদ। ১৯৯৬ সালে ইউনেস্কো তাঁকে বিজ্ঞানের কাজে অবদানের জন্য কলিঙ্গ পুরস্কারে ভূষিত করে। ১৯৬৫ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে পদ্মভূষণ সম্মান পান জয়ন্ত বিষ্ণু নারলিকর। ২০০৪ সালে, তিনি পদ্মবিভূষণ সম্মানেও সম্মানিত হন। ২০১১ সালে মহারাষ্ট্র সরকার তাঁকে রাজ্যের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার, মহারাষ্ট্র ভূষণে সম্মানিত করে। মারাঠি ভাষায় লেখা আত্মজীবনী গ্রন্থের জন্য ২০১৪ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান বিশ্ববরেণ্য এই বিজ্ঞানী।

সাহিত্যচর্চার প্রতিও ঝোঁক ছিল জয়ন্ত বিষ্ণু নারলিকরের। ইংরেজি ও মারাঠি ভাষায় একাধিক বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের রচয়িতা তিনি। ভারতের একজন বিশিষ্ট কল্পবিজ্ঞানের কাহিনির লেখকও। মাতৃভাষা মারাঠিতে রচিত তাঁর কল্পবিজ্ঞান কাহিনিগুলি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।