উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজধানী দিল্লিতেও তাপমাত্রা হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শনিবার দিল্লিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছয়, যা চলতি মরশুমে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। রবিবারও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির উপরে থাকায় শহরজুড়ে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। একাধিক এলাকায় গরম হাওয়া বইতে দেখা গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এই তাপপ্রবাহ চলতে পারে। পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান ও উত্তরপ্রদেশে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে প্রয়াগরাজে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে, যা এই মরশুমে সর্বাধিক। রাজ্যের ৩২টি জেলায় তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মধ্য ভারতের মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও বিদর্ভ অঞ্চলেও চরম গরমে মানুষ নাজেহাল। পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশেও এই পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কেরল ও মাহে এলাকায় আগামী দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।
ক্রমবর্ধমান গরমের মধ্যে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। দুপুর ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে সরাসরি রোদে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত জলপান, হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরা এবং টুপি, ছাতা বা চশমা ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তাপপ্রবাহের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি অনেকটাই বাড়বে।