নয়ডা, ২০ জানুয়ারি— উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় জল জমা গভীর গর্তে গাড়ি-সহ পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ২৭ বছরের ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার। মঙ্গলবার এই ঘটনায় অভয় কুমার নামে এক ঠিকাদারকে গ্রেপ্তার করেছে নয়ডা পুলিশ। দুর্ঘটনার পর থেকে প্রশাসনিক গাফিলতি, উদ্ধারকাজে বিলম্ব এবং দীর্ঘদিন খোলা পড়ে থাকা গর্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
শুক্রবার রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় নয়ডার সেক্টর ১৫০ এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘন কুয়াশার মধ্যে রাস্তার বাঁক ঘুরতে গিয়ে একটি বাণিজ্যিক প্রকল্পের জন্য খোঁড়া প্রায় ৭০ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যায় যুবরাজের এসইউভি গাড়ি। গর্তে তখন কাদাজল জমে ছিল। গাড়ি পড়ে যাওয়ার পর কোনওমতে বেরিয়ে ছাদে উঠে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন যুবরাজ। সাঁতার না জানার কারণে জলে নামতে পারেননি তিনি।
দুর্ঘটনার পরই বাবা রাজকুমার মেহতাকে ফোন করে যুবরাজ জানান, তিনি জলভরা গর্তে আটকে পড়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা, আমি মরতে চাই না।’
এদিকে এই ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই গাড়িটি ডুবে যায় এবং চোখের সামনে ছেলেকে হারান বাবা। এই দৃশ্য দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে পরিবারটি।
এই ঘটনার পর ঠিকাদারি সংস্থা উইশটাউন প্ল্যানার্স প্রাইভেট লিমিটেডের অন্যতম মালিক অভয় কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ২০২১ সালে একটি শপিং মল তৈরির জন্য ওই গর্ত খোঁড়া হলেও পরে তা সুরক্ষিত করা হয়নি। সংস্থার আরেক অংশীদার মণীশ কুমারের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
ঘটনার জেরে নয়ডা প্রশাসনের সিইও এম লোকেশকে বরখাস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। পাশাপাশি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই মৃত্যু নিয়ে বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, মানুষের জীবন বিপন্ন হলেও প্রশাসনের কোনও জবাবদিহি নেই। নয়ডার এই ঘটনা ফের শহুরে পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।