পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে শুল্ক আরোপ নিয়ে ইরানের সঙ্গে ভারতের আলোচনা চলছে— এমন জল্পনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিল কেন্দ্রের মোদী সরকার। সোমবার সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এ ধরনের কোনও আলোচনা হয়নি। এই খবরের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।
কেন্দ্রীয় জাহাজ পরিবহণ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব মুকেশ মঙ্গল এই বিষয়ে জানান, ‘ভারত সরকার এমন কোনও প্রস্তাব বা আলোচনার সঙ্গে যুক্ত নয়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য ইরানের সঙ্গে কোনও রকম শুল্ক নিয়ে কথা হয়নি।’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বাজারে ছড়ানো এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং অযথা উদ্বেগ তৈরির চেষ্টা করছে।
প্রসঙ্গত, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে ভারতের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়েও সরকার সতর্ক নজর রাখছে বলে দাবি করা হয়েছে। মুকেশ মঙ্গল জানান, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে চলাচল করা মোট ১৬টি ভারতীয় জাহাজের উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে ‘গ্রিন সানভি’ ও ‘গ্রিন আশা’ নামে দুটি এলপিজি বাহক জাহাজ ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রম করেছে। এগুলি যথাক্রমে ৭ এপ্রিল ও ৯ এপ্রিল ভারতে পৌঁছনোর কথা।
এই দুই জাহাজে মোট প্রায় ৬২ হাজার টন তরলীকৃত গ্যাস রয়েছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ফলে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির টানাপোড়েনের মধ্যেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত থাকার বার্তা দিয়েছে কেন্দ্র।
অন্যদিকে, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস দপ্তরের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি আমদানিতে কিছুটা মন্থর গতি লক্ষ্য করা গেলেও দেশীয় উৎপাদন এখনও সীমিত। এই ঘাটতি মেটাতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকার মতো দেশ থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আমদানি চালু রয়েছে। তিনি আরও জানান, সার কারখানাগুলিতে গ্যাস সরবরাহ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি শহরভিত্তিক গ্যাস পরিবহণ সংস্থাগুলিকেও অতিরিক্ত ১০ শতাংশ গ্যাস বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে চাহিদা সামাল দেওয়া যায়।
বিদেশ মন্ত্রকের উপসাগরীয় দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব অসীম আর মহাজন জানান, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭ লক্ষ ৩০ হাজার ভারতীয় দেশে ফিরে এসেছেন। যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিমান পরিষেবাও বাড়ানো হয়েছে। সোমবার কাতার এয়ারওয়েজ ভারতের বিভিন্ন শহরে ৮ থেকে ১০টি উড়ান পরিচালনা করছে।
সব মিলিয়ে কেন্দ্রের বার্তা স্পষ্ট— হরমুজ প্রণালী নিয়ে ভুয়ো জল্পনায় কান না দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতির উপর নজর রাখাই জরুরি। দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছে।