ধর্ষণ মামলায় তরুণ তেজপালের ১০ বছরের কারাদণ্ড স্থগিত নয় , জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

২০১৩ সালের ধর্ষণ মামলায় বড় ধাক্কা ‘তেহেলকা’র প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপালের। ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দিল শীর্ষ আদালত। ফলে আপাতত ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশই বহাল থাকছে। অন্যদিকে, তেজপালের সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন করার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে গোয়া সরকারও।

বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চে শুক্রবার এই মামলার শুনানি হয়। তেজপালের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর মক্কেলের কারাদণ্ড স্থগিত রাখার আর্জি জানান তিনি। তবে সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি আদালত। নথিতে থাকা ই-মেল ও বার্তার উল্লেখ করে সাজা স্থগিত রাখার দাবি জানানো হলেও, এই মামলায় তেমন কোনও স্বস্তি দেওয়ার কারণ দেখছে না শীর্ষ আদালত।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে হোটেলের লিফটে এক মহিলা সহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তেজপালের বিরুদ্ধে। সেই সময় তিনি ‘তেহেলকা’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গোয়া পুলিশ মামলা দায়ের করে এবং ওই বছরই গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। ২০১৪ সালে জামিনে মুক্তি পান তেজপাল। ২০২১ সালে গোয়ার নিম্ন আদালত তাঁকে মামলা থেকে খালাস করে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। গত ৬ আগস্ট নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে তেজপালকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে হাইকোর্ট। তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। 
 
হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ২০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন ৬২ বছর বয়সের তেজপাল। একই সঙ্গে তাঁর সাজা বাড়িয়ে যাবজ্জীবন করার দাবিতে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে গোয়া সরকার। ফলে একদিকে নিজের দোষী সাব্যস্ত হওয়া ও সাজা খারিজের আবেদন, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের সাজা বৃদ্ধির দাবি—দুই আবেদনেরই শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।