গ্র্যাপ-এ মিলছে না কোনও সুফল, বিষাক্ত থাকছে দিল্লির বাতাস

File Photo

দিল্লির বিষাক্ত বাতাসের কোনও স্থায়ী পরিবর্তন হয়নি। বাতাসের কোনও উন্নতিও হয়নি। এমনটাই জানাচ্ছে পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’ (CREA)। ওই সংস্থাটি বিগত ৪ বছরের শীতকালীন তথ্য পর্যালোচনা করেছে। সেই হিসেবে তারা জানিয়েছে, সরকারের গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান বা ‘গ্র্যাপ’ (GRAP) দীর্ঘস্থায়ী কোনও সুফল এনে দিতে পারছে কি না, সেটা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ওই সংস্থা একটি পরিসংখ্যান পেশ করেছেন। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২-২৩ সালে শীতের সময়ে দিল্লির গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই (AQI) ছিল ২৮০। সম্প্রতি ২০২৫-২৬ সালে শীতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯৫-এ। ২০১৬ সাল থেকে কার্যকর হওয়া এই জরুরি পরিবেশ-নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, একিউআই-এর কোনও স্থায়ী উন্নতি না হওয়া মানে ‘গ্র্যাপ’ দূষণের সর্বোচ্চ মাত্রা বা স্পাইক রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, তা বলা যুক্তিযুক্ত নয়। দেখা গিয়েছে, দিল্লিতে শীতের সময়ে প্রতি ৫ দিনের ৪ দিনই গ্র্যাপ-এর দ্বিতীয় পর্যায় (Stage II) বা তারও বেশি মাত্রার কড়া বিধিনিষেধের মধ্যে দিয়ে নাগরিকদের অতিবাহিত করতে হয়েছে।


সিআরইএ (CREA) গত চার বছর শীতের সময়ে দিল্লির মোট ১২টি পর্ব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছে। যেখানে বাতাসের গুণমান স্টেজ ১ বা ২ থেকে একলাফে স্টেজ ৩ বা ৪-এর বিপজ্জনক মাত্রায় প্রবেশ করেছিল। দেখা গিয়েছে, এই ১২টি পর্বের মধ্যে ১০টি ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরের এক সপ্তাহে শহরের বাতাস আরও বেশি দূষিত ও দমবন্ধকর হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: আসানসোল-ধানবাদ ছুঁয়ে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন পৌঁছবে দিল্লিতে, কবে থেকে চলবে?

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর বাতাসের মান সবচেয়ে বেশি খারাপ হয়েছিল। একিউআই ৩১৭ থেকে একলাফে ১১৪ পয়েন্ট পৌঁছে গিয়েছিল ৪৩১-এ। ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর একিউআই বেড়েছিল ১০০ পয়েন্ট এবং ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি ও ২৮ জানুয়ারি যথাক্রমে ৯৪ ও ৯২ পয়েন্ট করে বৃদ্ধি পেয়েছিল।