বিহার মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে নীতীশ-পুত্র নিশান্ত

দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বিহার মন্ত্রীসভায় শপথ নিলেন নিশান্ত কুমার। নিশান্ত রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পুত্র। বৃহস্পতিবার সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি-জেডিইউ জোট সরকারের মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন নিশান্ত। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাঁকে। নিশান্তের সঙ্গে এ দিন আরও ৩১ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন।

শপথ নেওয়ার পর নিশান্ত বলেন, ‘জেডিইউ-র শীর্ষ নেতৃত্ব আমার উপর যে আস্থা রেখেছে, তার মর্যাদা রাখার চেষ্টা করব। সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে বিহারকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমার লক্ষ্য। আমি বাবার নির্দেশ মেনে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে কাজ করব।’

রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর ১৫ এপ্রিল বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন নীতীশ কুমার। তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল, জেডিইউ-র তরফে নীতীশের উত্তরসূরি হিসাবে সামনে আনা হতে পারে নিশান্তকে। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হল। এ দিনের মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণে বিজেপি ও জেডিইউ, দুই শিবিরই সমান গুরুত্ব পেয়েছে। ২৪৩ সদস্যের বিহার বিধানসভায় ৮৯ জন বিধায়ক নিয়ে বিজেপি এখন একক বৃহত্তম দল। সেই দলের ১৫ জন বিধায়ক বৃহস্পতিবার মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন। অন্যদিকে নিশান্ত-সহ জেডিইউ-এর ১৫ জন সদস্য রয়েছেন সম্রাট চৌধুরীর মন্ত্রিসভায়। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন বৃহস্পতিবার গান্ধী ময়দানে শপথ গ্রহণ করেন। জেডিইউ নেতা বিজয়কুমার চৌধুরী এবং বিজেন্দ্র প্রসাদ যাদব ১৫ এপ্রিলই উপমুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন।


এদিন জোট শরিক দলগুলির সদস্যদেরও মন্ত্রীসভায় ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ানের নেতৃত্বাধীন লোক জনশক্তি পার্টির সঞ্জয় কুমার সিং এবং সঞ্জয় কুমার পাসওয়ান ফের মন্ত্রী হয়েছেন। জিতনরাম মাঁঝির হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চার সন্তোষকুমার সুমনও মন্ত্রী পদে বহাল রয়েছেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহার ছেলে দীপক প্রকাশও নতুন মন্ত্রীসভায় জায়গা পেয়েছেন।
চলতি বছরের ৮ মার্চ নিশান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জেডিইউতে যোগ দেন। তার আগে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ছিল না। পাটনার কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর রাঁচীর বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন নিশান্ত। পরে একটি বহুজাতিক সংস্থায় চাকরিও করেন তিনি।