দিল্লির যন্তরমন্তরে একটা প্রতিবাদ। তারপর একটা পডকাস্ট। আর তার জেরে গোটা দেশ জুড়ে হইচই। দিন খানিক বদলেছে বটে, তবে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি (CJP)-র ১৪ বছরের কিশোরী কর্মী নিশু আজাদ (Nishu Azad) এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ফোনে অকথ্য গালিগালাজ, খুনের হুমকি পাচ্ছেন তিনি ও তাঁর পরিবারের সব সদস্যই। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ সত্ত্বেও তাঁকে বা তাঁর পরিবারকে এখনও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত
গত ২০ জুলাই যন্তরমন্তরে সিজেপির একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন নিশুর বাবা সঞ্জয় কুমারের (Sanjay Kumar) উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত হিসেবে নাম জড়ায় স্বঘোষিত হিন্দুত্ববাদী ইনফ্লুয়েন্সার স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের (Swatantra Bhardwaj)। সেদিনই একটি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়। যদিও প্রাথমিক ভাবে দিল্লি পুলিশ জানায়, সঞ্জয়ের চোট সাধারণ প্রকৃতির, একটি স্টিলের বালা থেকে সেই আঘাত লেগেছিল।
পডকাস্ট বিতর্ক
ঘটনা নতুন মোড় নেয় যখন একটি পডকাস্টে স্বতন্ত্র নিজেই দাবি করে, সে সঞ্জয়ের মাথার খুলি ফাটিয়ে দিয়েছিল। পরে অবশ্য নিজের আত্মরক্ষার যুক্তি দেয়। এই ভিডিও ভাইরাল হতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সিজেপির প্রতিনিধিরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে অবিলম্বে গ্রেপ্তারির দাবি জানান। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর থেকে আটক করা হয় স্বতন্ত্রকে। এফআইআরে যোগ হয় এসসি/এসটি (আইন) সুরক্ষা আইন (SC/ST Act) এবং অপরাধমূলক ভয় দেখানোর ধারাও।
পকসো মামলা
শুধু বাবার উপর হামলা নয়, নিশুর অভিযোগ, স্বতন্ত্রের সমর্থকদের তরফে তাঁকে অনলাইনে ধর্ষণের হুমকি ও কুৎসিত মন্তব্যের শিকার হতে হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো আইনে (POCSO Act) পৃথক একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে, যাতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (IT Act) ধারাও যুক্ত হয়েছে। স্বতন্ত্রকে আটকের পরের দিনই গাজিয়াবাদের শালিমার গার্ডেন এলাকায় নিশুদের বাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। সমাজমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে নিশু জানান, বাড়ির কাচ ভেঙে গিয়েছে, আর বিজেপি-আরএসএসের (BJP-RSS) সমর্থক বলে দাবি করা কিছু লোকজন বাড়ির বাইরে জড়ো হয়ে হুমকি দিচ্ছে।
সুপ্রিম নির্দেশেও মিলছে না সুরাহা
বিষয়টি গড়িয়েছে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। সুপ্রিম কোর্ট নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন এখনও দেখা যায়নি বলে অভিযোগ নিশুর। তাঁর কথায়, আদালতের নির্দেশের পরেও তাঁকে বা তাঁর পরিবারকে কোনও নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি। উপরন্তু তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক পাল্টা এফআইআরও দায়ের হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি, যার জেরে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
পড়াশোনা লাটে, লড়াই চলছে
এই গোটা বিতর্কের প্রভাব পড়েছে নিশুর ব্যক্তিগত জীবনেও। মানসিক চাপ ও বিতর্কের জেরে বেশ কয়েক সপ্তাহ স্কুলে যেতে পারেননি তিনি। তার পরেও বাবার হয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন এই কিশোরী, সমাজমাধ্যমে নিয়মিত পোস্ট করে প্রশাসনের গাফিলতির কথা তুলে ধরছেন।