লালকেল্লা বিস্ফোরণের আগে আল-ফালহা ক্যাম্পাসেই বিস্ফোরক পরীক্ষা, চার্জশিটে চাঞ্চল্যকর দাবি

Red Fort Blast Case Photo-SNS

লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের আগে হরিয়ানার আল-ফালহা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং আরাবল্লির জঙ্গলে বিস্ফোরকের পরীক্ষা চালিয়েছিল অভিযুক্ত চিকিৎসকদের একটি জঙ্গি মডিউল। এনআইএ-র চার্জশিটে এমনই দাবি করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, বিস্ফোরক তৈরি এবং তার কার্যকারিতা পরীক্ষা করার পরই দিল্লিতে হামলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

চার্জশিট অনুযায়ী, ২০২৫-এর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে চিকিৎসক উমর উন নবি, মুজাম্মিল শাকিল গনাই এবং আল-ফালহার ছাত্র জসির বিলাল ওয়ানি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিস্ফোরকের পরীক্ষা চালান। তার আগে গনাইয়ের ফ্ল্যাটে বিস্ফোরক তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি এনআইএর। ক্যাম্পাসে পরীক্ষা সফল হওয়ার পর আরও বড় পরিসরে পরীক্ষার জন্য তা আরাবল্লির জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অত্যন্ত শক্তিশালী টিএটিপি বিস্ফোরকের পরীক্ষাও চালানো হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রথম দিকে তুলনামূলকভাবে সাধারণ বিস্ফোরক তৈরির চেষ্টা হলেও পরে অভিযুক্তরা আরও শক্তিশালী বিস্ফোরক তৈরির দিকে ঝুঁকে পড়ে। এনআইএর দাবি, মডিউলটির জন্য অর্থ ও অস্ত্র জোগাড়েও সাহায্য করেছিলেন আল-ফালহা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক শাহিন শাহিদ। প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা জঙ্গিগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছেছিল বলে চার্জশিটে বলা হয়েছে। সেই অর্থে আগ্নেয়াস্ত্র কেনা এবং সেগুলির পরীক্ষা চালানো হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।


বিস্ফোরক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী ধাপে ধাপে সংগ্রহ করে প্রথমে অভিযুক্তদের বাসস্থানে এবং পরে ফরিদাবাদের ধৌজ এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে রাখা হয়। সেখানেই বড় আকারে বিস্ফোরক তৈরি ও মজুতের কাজ চলত। তদন্তে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।চার্জশিটে আরও দাবি, ২০২৫-এর মার্চের মধ্যে বিপুল পরিমাণ টিএটিপি তৈরি করে তা একাধিক ট্রলি ব্যাগে রাখা হয়। পরে পুলিশের তৎপরতা এবং এক অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। চারটি বিস্ফোরক ভর্তি ট্রলি নিয়ে উমর উন নবি ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে পৌঁছন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সেদিন গাড়িতে বিস্ফোরণে উমরের মৃত্যু হয়। চার্জশিটে ওই হামলায় একাধিক মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি বহু জন আহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে এনআইএ। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার আগে মডিউলটি বিস্ফোরক তৈরি, পরীক্ষা এবং অস্ত্র সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিল।চার্জশিটে আরও দাবি, হামলাকারীর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল লালকেল্লার কাছের একটি ধর্মীয় স্থান। কিন্তু যানজট এবং পুলিশের উপস্থিতির কারণে পরিকল্পনা বদলে লালকেল্লার দিকে এগিয়ে যায় গাড়িটি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটে বিস্ফোরণ।