ভোটার তালিকা বিতর্কে নতুন মোড়, কমিশনের সিদ্ধান্তের নথি সংরক্ষণের আর্জি রাহুল গান্ধীর আইনজীবীর

Supreme Court Photo-SNS

বিহারের এসআইআরে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতির সঙ্গে ফর্ম ৬-এর বিতর্ককে এক করে দেখা যায় না, আদালতে যুক্তি মামলাকারীর। সিদ্ধান্ত গ্রহণের নথি সংরক্ষণের আর্জি রাহুল গান্ধীর আইনজীবীর। জবাবি হলফনামা জমার জন্য ১০ দিনের সময় দিল শীর্ষ আদালত।

ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বিতর্কে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠল সুপ্রিম কোর্টে। ফর্ম ৬-এ কথিত কারচুপি নিয়ে কমিশনের জবাবকে হাতিয়ার করে মামলাকারীর আইনজীবী অভিযোগ করলেন, তাঁদের তোলা একাধিক অভিযোগ কমিশন নিজের জবাবেই কার্যত মেনে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনুমতিকে ফর্ম ৬-সংক্রান্ত বিতর্কের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও সওয়াল করেন তিনি।

শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী গুরস্বামী বলেন, নির্বাচন কমিশনের জবাব খতিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে, তাঁদের তোলা বহু অভিযোগের সঙ্গে কমিশনের বক্তব্যের মিল রয়েছে। তাঁর আবেদন, একই বিষয়ে বিচারাধীন অন্য মামলাগুলির সঙ্গেই এই মামলাটির শুনানি করা হোক।


প্রধান বিচারপতি জানান, নির্দিষ্ট দিনেই সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির শুনানি হবে। সেই দিনেই এই মামলাতেও নোটিশ জারি করা হবে বলে জানান তিনি। আদালতের এই অবস্থানের পর গুরস্বামী বলেন, একই গুচ্ছের মামলার সঙ্গে তাঁর মামলাটিরও শুনানি হতে পারে। এরপরেই ফর্ম ৬ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

গুরস্বামীর বক্তব্য, ফর্ম ৬-এ কথিত কারচুপির পক্ষে কমিশন যে ভাবে যুক্তি দিচ্ছে, তা অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ। বিহারের এসআইআর-এ সুপ্রিম কোর্টের অনুমতির প্রসঙ্গ তুলে কমিশন যে যুক্তি দিচ্ছে, তার সঙ্গে বর্তমান বিতর্কের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

কমিশনের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে সিনিয়র আইনজীবী মনিন্দর সিং পাল্টা বলেন, মামলাকারীর পক্ষ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে উত্তেজক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে। বিহারের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে বর্তমান বিতর্ককে এক করে দেখার বিরোধিতা করেন তিনি।

গুরস্বামী যুক্তি দেন, বিহারের এসআইআর-এ সংশ্লিষ্ট ফর্মের বিষয়বস্তু ছিল নাগরিকত্ব ও জাতিগত পরিচয়। তার সঙ্গে ফর্ম ৬-এর প্রশ্নকে গুলিয়ে ফেলা যায় না। অর্থাৎ, একটি মামলায় আদালতের অনুমতিকে অন্য বিতর্কিত পদক্ষেপের বৈধতার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়, এটাই ছিল তাঁর সওয়ালের মূল বক্তব্য।

শুনানির এক পর্যায়ে আইনজীবী নেদুমপাড়া মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, একই ধরনের একাধিক মামলা দায়ের করে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে। এমনকী এনজে এ সি মামলার শুনানির জন্যও আদালতের সময় মিলছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাল্টা মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের অজান্তেই এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে।

এদিন শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে সিনিয়র আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, গোটা বিতর্কের নিষ্পত্তি নির্ভর করছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ এবং সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছিল কি না, তার উপর। তাই সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত ফাইলের নোটিং-সহ যাবতীয় নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানান তিনি।

সিংভির এই আবেদনের বিরোধিতা করেন সলিসিটর জেনারেল। তাঁর মতে, এই ধরনের আবেদন ন্যায্য নয়। তবে প্রধান বিচারপতি জানান, আদালত বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

আরও পড়ুন: কলকাতা থেকে তেলঙ্গানা, প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে তপোব্রত চক্রবর্তী

সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন, ফর্ম ৬-এর ব্যবহার এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা, তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে শুনানিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। আদালত জবাবি হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় দিয়েছে। তারপর মামলাটি ফের শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হবে।