সেনা জওয়ান ও তাঁর পরিবারকে আইনি সহায়তায় নতুন প্রকল্প ‘নালসা’

দেশের সুরক্ষার কাজে ব্যস্ত সেনা জওয়ানরা। আসতে পারছেন না আদালতে। নিজের অথবা পরিবারের এরকম জটিল পরিস্থিতিতে চিন্তার কোনও কারণ নেই। তাঁদের আইনি সহায়তা দিতে আনা হচ্ছে নতুন প্রকল্প। দেশের আদালতের পক্ষ থেকে অভয়বাণী দিয়ে সেনা জওয়ানদের প্রতি বার্তা, ‘দেশসেবা করুন, বাকি আমরা সামলাব’। অর্থাৎ সীমান্তে সেবা দিন, বাকি দায়িত্ব বিচারব্যবস্থার। দেশের সেনা জওয়ান এবং তাঁর পরিবারকে সরকারি উদ্যোগে আইনি সহায়তা দিতে চালু হতে যাওয়া এই নতুন প্রকল্পের নাম ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি বা নালসা (এনএএলএসএ)। অর্থাৎ বাংলায় অর্থ দাঁড়ায় ‘বীর পরিবার সহায়তা যোজনা ২০২৫’। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, সীমান্তে কর্তব্য পালনে ব্যস্ত সেনা জওয়ানদের উটকো আইনি ঝামেলা থেকে মুক্তি দেওয়া, যাতে তাঁরা দেশের সুরক্ষায় নির্বিঘ্নে কাজ করার সময় মানসিক চাপমুক্ত থাকতে পারেন।

জানা গিয়েছে, বিচারপতি সূর্য কান্ত ন্যাশনাল লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির কার্যকরী চেয়ারম্যান, যিনি আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে দেশের পরবর্তী প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলাবেন। এই প্রকল্পের ভাবনা প্রথম মাথায় আসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে। দেশের ভাবী প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ভারতের সেনা জওয়ানদের আত্মত্যাগ দেখে বিচলিত হন। তিনি তখন ভাবতে শুরু করেন, তাঁর বিচার বিভাগ কী করে সেনা জওয়ানদের পাশে দাঁড়াতে পারে। কারণ বহুদিন ধরে অভিযোগ ছিল, সীমান্ত বা দুর্গম অঞ্চলে মোতায়েন থাকা সেনা সদস্যরা পরিবার বা সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনি সমস্যায় জড়িয়ে পড়লেও আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেন না। সেই সমস্যার সমাধানের চিন্তা থেকেই এই প্রকল্পের সূত্রপাত।

প্রসঙ্গত, কাশ্মীরের দুর্গম অঞ্চলে মোতায়েন একজন সেনা জওয়ান নিজের রাজ্যে কোনও আইনি সমস্যায় জড়ালে আদালতে হাজিরা দিতে পারেন না। ফলে মামলাটি ঝুলে যায়। এই প্রকল্পে সেই সহযোগিতা পাওয়া যাবে। তবে শুধু দেশের সেনারা এই আইনি সুবিধা পাবেন তা নয়। সেই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সুরক্ষার কাজে নিযুক্ত বিএসএফ, সিআরপিএফ, আইটিবিপি-র মতো আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পে সহায়তা দেওয়া হবে।


উল্লেখ্য, কাশ্মীর উপত্যকার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সীমান্ত ঘেঁষে চলছে সংঘর্ষ। ও পার থেকে ধেয়ে আসছে একের পর এক গোলাগুলি। পাল্টা জবাব যাচ্ছে এ পার থেকেও। হাতে বন্দুক নিয়ে যে জওয়ান নিরন্তর শত্রু দেশের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। সীমান্তে তাঁরা দেশের জন্য লড়ছেন। দেশের অন্য প্রান্তে হয়তো উটকো আইনি ঝামেলায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিজের বাড়ি বা নিজের পরিবারের সদস্যদের। অথচ সেই কথা ভাবার সময় তাঁর নেই! গৃহকর্তার অনুপস্থিতিতে হয়তো মামলা চলে যাচ্ছে পরিবারের হাতের বাইরে! অথবা অকারণে হয়তো মামলা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এই ধরনের অনিশ্চয়তা দূর করতে সেনা জওয়ানের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এল আদালত।