বিজেপির ভোট বাড়াতে কাজ করব: শপথ নেওয়ার আগেই বিতর্কে ওড়িশার নবনিযুক্ত রাজ্যপাল

Braj Mohan Ram Appointed New Governor of Odisha (SNS)

রাজভবনের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রকাশ্য রাজনৈতিক মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় তুললেন ওড়িশার নবনিযুক্ত রাজ্যপাল ব্রজমোহন রাম। সাংবিধানিক প্রধানের পদে আসীন হওয়ার প্রাক্কালে তিনি দাবি করেছেন, ওড়িশায় গিয়ে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির ভোট বাড়ানোর চেষ্টা করবেন এবং দলের তপশিলি মোর্চাকে শক্তিশালী করে তুলবেন। নিরপেক্ষ সাংবিধানিক পদে বসার মুখে এমন খোলামেলা দলীয় বয়ানে স্বাভাবিক ভাবেই জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। বিজু জনতা দল (BJD) এবং কংগ্রেস একযোগে আক্রমণ শানিয়ে বলেছে, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই রাজভবন আর দলীয় কার্যালয়ের সীমারেখা মুছে দিয়ে পদের মর্যাদাকে ধূলিসাৎ করলেন এই বিজেপি নেতা।

সাংবাদিক বৈঠকে বিতর্কিত মন্তব্য

 সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বিজ্ঞপ্তিতে ওড়িশার ২৮তম রাজ্যপাল হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ঝাড়খণ্ডের পালামুর তিন বারের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ব্রজমোহন রাম। হরি বাবু কমভমপাতির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন তিনি। রাঁচীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের রাজনৈতিক আনুগত্যের ইতিহাস সবিস্তারে তুলে ধরেন এই প্রবীণ দলিত নেতা।


 তিনি জানান, ঝাড়খণ্ডে দীর্ঘদিন বিজেপির দলিত মোর্চার সভাপতি হিসেবে কাজ করে তিনি সংগঠন মজবুত করেছিলেন। ওড়িশাতেও একই ভাবে দলের তপশিলি মোর্চাকে (Scheduled Caste wing) সক্রিয় করবেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ওড়িশায় দলের সংগঠন আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি যাতে বিজেপির ঝুলিতে বেশি ভোট আসে (vote share), সেই চেষ্টাই তিনি করবেন। এমনকী তিন-তিন বার দলের টিকিট না পাওয়া সত্ত্বেও দলবদল না করে তিনি যে দলের প্রার্থীদের জেতানোর জন্য দিনরাত খেটেছেন, সেই আনুগত্যের কথাই গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন তিনি।

সরব বিরোধীরা

 রাজ্যপাল পদটি যে সম্পূর্ণ নির্দলীয় এবং একটি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (constitutional post), এই সাধারণ গণতান্ত্রিক পাঠ মনে করিয়ে দিয়ে আসরে নেমেছে নবীন পট্টনায়কের দল বিজেডি। আঞ্চলিক দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজ্যপাল গোটা রাজ্যের জনগণের অভিভাবক, তিনি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ভোট জোগাড়ের প্রতিনিধি হতে পারেন না। শপথ নেওয়ার আগেই যাঁর মুখে এমন দলীয় স্লোগান, তাঁর কাছ থেকে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা আশা করা বাতুলতা।

 একই সুরে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেসও। তাদের অভিযোগ, বিরোধীদের নিশানা করতে এবং রাজ্য রাজনীতিতে প্রভাব খাটাতে কেন্দ্র বেছে বেছে সক্রিয় দলীয় ক্যাডারদের রাজভবনে পাঠাচ্ছে। ব্রজমোহন রামের এই মন্তব্য প্রমাণ করে দিল যে, রাজভবনকে সরাসরি রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত করার ছক কষা হয়েছে।<blockquote class=”twitter-tweet”><p lang=”or” dir=”ltr”>ଓଡ଼ିଶାର ନୂତନ ରାଜ୍ୟପାଳ ଭାବେ ମନୋନୀତ ଶ୍ରୀ ବ୍ରଜ ମୋହନ ରାମ ଜୀଙ୍କୁ ହାର୍ଦ୍ଦିକ ସ୍ୱାଗତ। ଦଳୀୟ କାର୍ଯ୍ୟ କରିବା ପାଇଁ ମନୋନୀତ ରାଜ୍ୟପାଳଙ୍କ ଉତ୍ସାହକୁ ଓଡ଼ିଶାବାସୀ ଦେଖୁଛନ୍ତି। ଆଶା, ମହାପ୍ରଭୁ ଶ୍ରୀଜଗନ୍ନାଥ ତାଙ୍କୁ ଓଡ଼ିଶାବାସୀଙ୍କ ସେବା କରିବା ପାଇଁ ଟିକେ ଉତ୍ସାହ ଓ ଶକ୍ତି ପ୍ରଦାନ କରିବେ; ଯାହା ଦ୍ୱାରା ସେ ନିରପେକ୍ଷ ଭାବେ ଏବଂ ସାମ୍ବିଧାନିକ ମର୍ଯ୍ୟାଦା ରକ୍ଷା କରି ନିଜ ଦାୟିତ୍ୱ ତୁଲାଇବେ। #Odisha @rashtrapatibhvn @narendramodi</p>&mdash; Naveen Patnaik (@Naveen_Odisha) <a href=”https://x.com/Naveen_Odisha/status/2110378752069013583?ref_src=twsrc%5Etfw”>October 14, 2026</a></blockquote> <script async src=”https://platform.x.com/widgets.js” charset=”utf-8″></script>

সাংবিধানিক অঙ্গীকারে টানাপড়েন

১৯৯১ সালে বিহার বিধানসভার বিধায়ক হিসেবে সংসদীয় ইনিংস শুরু করা ব্রজমোহন রাম ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত লোকসভার সাংসদ ছিলেন। পরবর্তী সময়ে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন। দীর্ঘ দলীয় আনুগত্যের ‘পুরস্কার’ হিসেবে তাঁর কপালে রাজভবনের শিকে ছিঁড়লেও, শপথ নেওয়ার আগেই তিনি যে ভাবে দলের ভোটযন্ত্র সচল রাখার কথা বললেন, তা ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর নিরপেক্ষতাকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল।