ভারত ও বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হল দিল্লিতে। বৃহস্পতিবার জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। সেনাপ্রধানের দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের সেনাবাহিনীর যৌথ প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে বিশদে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিকাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক শুধুমাত্র নিয়মিত সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিশার ইঙ্গিত বহন করছে। উল্লেখ্য, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক সীমিত পর্যায়ে ছিল।
তবে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোগী হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে ঢাকার তরফ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের হাইকমিশনার ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি, ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতের উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্কের উষ্ণতারই ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে আগামী ৭ এপ্রিল ভারত সফরে আসছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তাঁর সফরে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হতে পারে প্রতিরক্ষা চুক্তি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাতিল হওয়া অস্ত্র ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব ভারত তুলতে পারে।
ফলে আসন্ন বৈঠকগুলিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, অস্ত্র কেনাবেচা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয়ই অগ্রাধিকার পেতে পারে। সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আবারও সক্রিয় হয়েছে যা দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।