এবার বাদল অধিবেশনে একটি কড়া বিল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিলটিতে থাকছে, কোনও গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে যদি প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী অথবা অন্য কোনও মন্ত্রী যদি টানা ৩০ দিন অর্থাৎ একমাস গ্রেপ্তার বা আটক অবস্থায় থাকেন তাহলে তিনি সরাসরি পদচ্যুত হবেন। এই বিল এলে যে কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে যে কোনও দপ্তরের মন্ত্রী পদ খোয়াতে পারেন। বলা যেতে পারে, মন্ত্রীর চাকরি যেতে পারে। এই বিষয়টি সংবিধানের ১৩০তম ধারায় রয়েছে। যা সংবিধান সংশোধনী বিল হিসাবে আসতে পারে বলে সূত্রের খবর।
এদিকে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি আগামী ১৭ জুলাই তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করবে। এই বিল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তা নিয়ে সংসদে ঝড়ও উঠতে পারে। যদিও এই বিলটি দুর্নীতি রোধে অত্যন্ত কার্যকরী বলে মনে করছেন সাংসদ-মন্ত্রীদের একটা বড় অংশ। বিরোধীদের দাবি, এই বিল পাশ হলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বার্থে তা ব্যবহার হতে পারে। তাতে ক্ষতি হতে পারে বহু মন্ত্রীর কেরিয়ার। তবে সেটা যাতে না হয় তার জন্য বেশ কিছু সতর্কতামূলক পর্যবেক্ষণ জেপিসি যুক্ত করতে পারে। তারপরও বিরোধীরা এই বিল পাশ হোক চাইবে কিনা সেটাই দেখার বিষয়।
অন্যদিকে বিরোধী বেশ কয়েকটি দল এখন ভেঙেও গিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং উদ্ধব ঠাকরের দল। সমাজবাদী পার্টিও ভাঙতে পারে বলে সূত্রের খবর। এভাবে যদি বিরোধী দল ভেঙে যায় তাহলে সংসদের ভিতরে আওয়াজ তোলা কঠিন। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার একটি সংবিধান সংশোধনী বিল-সহ তিনটি বিল পেশ করেছিল। সেই বিলে ছিল, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্র বা রাজ্যের মন্ত্রীরা যদি পাঁচ বছরের বেশি কারাদণ্ড হতে পারে এমন অপরাধে গ্রেপ্তার হয়ে টানা ৩০ দিন আটক থাকলে তাঁদের পদ চলে যাবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তখন সংসদে ওই বিলগুলি পেশ করার পরই জানিয়েছিলেন, এই বিলগুলি পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হবে যৌথ কমিটির কাছে।
তাছাড়া সেই মতো তা পাঠানো হয়েছিল যৌথ কমিটিতে। এবার তাদের কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই এই বিল এবার সংসদের বাদল অধিবেশনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সেখানে এই বিল অনুমোদনের জন্য পেশ হতে পারে বলে সূত্রের খবর। সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গির নেতৃত্বাধীন ৩১ সদস্যের যৌথ সংসদীয় কমিটি এই বিলের উপর কাজ করেছে। কংগ্রেস-সহ বিরোধী জোট এই কমিটি বয়কট করেছিল। এই আইনের যাতে অপব্যবহার না হয় সেটার জন্য সংস্থান থাকাটাও জরুরি বলে অনেকে মনে করছেন।