অবশেষে বরফ গলল। ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ মিছিল প্রত্যাহার করে নিল ছাত্র-যুব সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি (Cockroach Janta Party)। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর (FIR) প্রত্যাহারের স্পষ্ট আশ্বাস মেলার পরই এই সিদ্ধান্ত বলে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জানানো হয়েছে।
FIR প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, গত ২৫ জুলাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা রক্ষায় কেন্দ্র বদ্ধপরিকর। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সেই দিনই ৩৬ দিনের টানা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল সিজেপি। এদিন সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাসও আদালতে বিবৃতি পড়ে জানিয়ে দেন, কেন্দ্র ইতিবাচক পদক্ষপ করায় সংগঠন পাঁচ তারিখের কর্মসূচি থেকে সরে আসছে।
পশ্চিমবঙ্গও এফআইআর প্রত্যাহার
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শুধু কেন্দ্র নয়, মহারাষ্ট্র, বিহার, আসামের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সরকারও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারে সম্মত বলে আদালতে জানিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল। তবে ব্যতিক্রম থাকছে গুরুতর অপরাধমূলক মামলায় ইতিমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। রাজ্যের বহু নিট পরীক্ষার্থী ও পড়ুয়া দিল্লির যন্তরমন্তরে চলা এই আন্দোলনে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছিলেন, ফলে এই ঘোষণা বাংলার পরিবারগুলির কাছেও স্বস্তির বার্তা।
অনুচ্ছেদ ১৪২ প্রয়োগের আর্জি
সোমবারই কেন্দ্রের তরফে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়, সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ (Article 142) প্রয়োগ করে যেন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের সব এফআইআর খারিজ করে দেওয়া হয়। ‘সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টকে যে অসীম ক্ষমতা সংবিধান দিয়েছে, সেটিরই উল্লেখ করেছেন তুষার মেহতা। প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, দু’পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে আদালতের কোনও আপত্তি নেই।
ক্ষতিপূরণ নিয়েও প্রতিশ্রুতি
আদালতে সলিসিটর জেনারেল আরও জানান, আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করবে সরকার। উল্লেখ্য, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র (NTA) বিরুদ্ধে পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে জুন মাস থেকে যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করেছিল সিজেপি, যাতে পরে যুক্ত হন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও। ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছিল।
মামলার পরবর্তী শুনানি হবে মঙ্গলবারই, যেখানে আদালত কেন্দ্রের আর্জির চূড়ান্ত রায় দিতে পারে বলে আইনজীবী মহলের ধারণা।