নিট প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে বিস্ফোরক তথ্য, রাজস্থানে প্রায় ১০০০ পরীক্ষার্থীর হাতে পৌঁছেছিল প্রশ্নপত্র

নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে সামনে এল আরও বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রাজস্থানের প্রায় ১০০০ পরীক্ষার্থীর হাতে আগেভাগেই পৌঁছে গিয়েছিল ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তিনটি রাজ্য থেকে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৪ জন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তদন্তে ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন রাজস্থানের মাঙ্গিলাল বিনওয়াল, তাঁর ভাই দীনেশ বিনওয়াল এবং মাঙ্গিলালের ছেলে বিকাশ। এছাড়া হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যশ যাদবকে। মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে ধরা হয়েছে শুভম খৈরনারকে। পুণে থেকে আটক করা হয়েছে মনীষা ওয়াঘমারে নামে এক মহিলাকে, যিনি পেশায় বিউটিশিয়ান। অভিযোগ, তাঁর একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়েছে। অহল্যানগর থেকেও আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।

রাজস্থান পুলিশের বিশেষ অপারেশন গ্রুপের তদন্তে উঠে এসেছে, গোটা চক্রটি অত্যন্ত সংগঠিতভাবে কাজ করছিল। অভিযোগ, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং জীববিদ্যার মোট প্রায় ৩০০টি প্রশ্ন হাতে লিখে তৈরি করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ওই প্রশ্নগুলির হাতের লেখা প্রায় একই ধরনের। তার মধ্যে অন্তত ১৫০টি প্রশ্ন মূল পরীক্ষার সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে বলে অভিযোগ।


প্রথমদিকে তদন্তকারীদের ধারণা ছিল, রাজস্থানের সীকর এলাকাকেই কেন্দ্র করে এই চক্র কাজ করছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এই নেটওয়ার্ক একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে ছিল। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র রাজস্থান থেকেই অন্তত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই ঘটনায় দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নিট পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে। চিকিৎসকদের সর্বভারতীয় সংগঠন ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। সংগঠনের তরফে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে নিট পরীক্ষার দায়িত্ব বর্তমান সংস্থার হাত থেকে সরিয়ে একটি স্বাধীন সংস্থা গঠনের দাবি তোলা হয়েছে।

আদালতে সংগঠনের পক্ষের আইনজীবী তন্বী দুবে জানিয়েছেন, এই ধরনের অনিয়মের ফলে দেশের প্রায় ২২ লক্ষ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই গোটা পরীক্ষা প্রক্রিয়ার উপর নজরদারির জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদেরও সেই কমিটিতে রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই প্রশ্ন ফাঁস চক্রের আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে যোগসূত্র খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রশ্ন তৈরি এবং তা পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি সুসংগঠিত আন্তঃরাজ্য চক্র সক্রিয় ছিল।

এখন গোটা দেশের ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের নজর শীর্ষ আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে। কারণ এই মামলার ভবিষ্যৎ রায় নিট পরীক্ষার কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ পরিচালনা ব্যবস্থার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে শিক্ষা মহল।